গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য, কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বিচারসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নাটোরের বাগাতিপাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত বিষয়ে সামাজিক নিরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বাগাতিপাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এ সামাজিক নিরীক্ষা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তা এবং ক্রিশ্চিয়ান এইডের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘এক্সপান্ডিং সিভিক স্পেস থ্রু অ্যাক্টিভ সিএসও পার্টিসিপেশন অ্যান্ড স্ট্রেনদেনড গভর্ন্যান্স সিস্টেম ইন বাংলাদেশ’ (ইসিসেপ) প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোছা. ফাহিমা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর রুরাল পিপলস অ্যাডভান্সমেন্ট (অর্পা)-এর সভাপতি মোছা. জোসনা বেগম, নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট মো. ওয়াহেদুজ্জামান এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান। এ সময় ইউনিয়নের কমিউনিটি সদস্য, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সামাজিক নিরীক্ষা কার্যক্রমে বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে পরিচালিত গ্রাম আদালতের সার্বিক কার্যক্রম, সেবার মান, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচারপ্রার্থীদের অংশগ্রহণ, তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ এবং বিচারসেবা গ্রহণে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের মতামত ও বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পাশাপাশি গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও কার্যকর, জনবান্ধব ও প্রান্তিক মানুষের কাছে সহজলভ্য করার বিষয়ে বিভিন্ন গঠনমূলক সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ দ্রুত, সহজ ও নামমাত্র খরচে নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে এ ব্যবস্থার সুফল সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি, সেবাপ্রাপ্তিতে সমতা নিশ্চিতকরণ এবং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও সুসংহত করা প্রয়োজন। সামাজিক নিরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে বিচারসেবা আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করেন।
বক্তারা উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং সামাজিক জবাবদিহিতার চর্চা বৃদ্ধি পেলে সরকারি সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি জনগণের আস্থাও দৃঢ় হবে।
উল্লেখ্য, ইসিসেপ প্রকল্প তৃণমূল পর্যায়ে সুশীল সমাজের ভূমিকা জোরদার, নাগরিকদের কণ্ঠস্বর শক্তিশালী করা এবং কার্যকর সুশাসন ও জবাবদিহিতামূলক স্থানীয় সেবাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
kalprakash.com/IM