রংপুরের কাউনিয়ায় সুরেশ্বরী পীরের অনুসারী ও মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। তবে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া অন্য পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন—মাসুদ রানা ও লিটন মিয়া।
মামলার এজাহার ও বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড় এলাকায় নিজ বাড়ির দরবার শরিফে মাজারের খাদেম রহমত আলীকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন নিহতের ছেলে আইনজীবী শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ নিশ্চিত করে যে, চরমপন্থী ধর্মীয় ভাবাবেগ ও মতাদর্শগত বিরোধের জেরে জেএমবির একটি দল পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ রংপুরের বিশেষ জজ আদালত এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন। বিচারিক আদালত তখন অভিযুক্ত সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ছয়জনকে বেকসুর খালাস দেন। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও রায়ের বিরুদ্ধে জেল আপিল করেন।
উচ্চ আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আজ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং নিম্ন আদালতে ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া অন্য পাঁচজনকে নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস প্রদান করেন।
kalprakash.com/IM