নবম জাতীয় পে স্কেলে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেনশন পাঁচটি নির্ধারিত স্তরে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন এই কাঠামোতে সবচেয়ে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে পেনশনভোগীর বর্তমান পেনশনের অঙ্ক যত বেশি, তাঁর বৃদ্ধির শতকরা হার তুলনামূলকভাবে তত কম রাখা হয়েছে। ফলে কম পেনশনধারীরা এ সুবিধা থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন।
অন্যদিকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে থাকা বহুল আলোচিত ‘এক পদ এক পেনশন’ বা ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ (ওআরওপি) এবারই একযোগে সম্পূর্ণ চালু হচ্ছে না। সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের এই বৈষম্য নিরসনে ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ওআরওপি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে একজন পেনশনভোগী যে নিট মাসিক পেনশন পান, সেটিকে ভিত্তি ধরে পাঁচটি স্তরে বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে:
১. ৯ হাজার টাকা বা এর কম নিট পেনশন হলে বাড়বে ১০০ শতাংশ। ২. ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনে বাড়বে ৭৫ শতাংশ। ৩. ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনে বাড়বে ৬৫ শতাংশ। ৪. ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনে বাড়বে ৬০ শতাংশ। ৫. ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার হবে ৫৫ শতাংশ।
হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে কোনো অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী যদি মাসে ৯ হাজার টাকা নিট পেনশন পান, তবে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির পর তাঁর নতুন পেনশন দাঁড়াবে ১৮ হাজার টাকায়। যাঁর পেনশন ২০ হাজার টাকা, ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধিতে তা দাঁড়াবে ৩৫ হাজার টাকায়। একইভাবে ৩০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তি ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধির পর পাবেন ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা। আর ৪০ হাজার টাকা পেনশনধারীর ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধিতে তা দাঁড়াবে ৬৪ হাজার টাকায়। তবে চূড়ান্তভাবে পেনশনের অর্থ নির্ধারণের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের নিয়ম, সংশ্লিষ্ট সিলিং বা ঊর্ধ্বসীমা এবং অন্যান্য অবসর-পরবর্তী সুবিধা সমন্বয় করা হবে।
নতুন কাঠামোয় ঢালাওভাবে সবার জন্য একই হারে পেনশন বাড়ানো হয়নি। বিশেষ করে বহু বছর আগে অবসরে যাওয়া বয়োবৃদ্ধ ও তুলনামূলক স্বল্প পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের আর্থিক স্বস্তি দেওয়াই এই পুনর্বিন্যাসের মূল লক্ষ্য।
এদিকে ‘এক পদ এক পেনশন’ অবিলম্বে পুরোপুরি চালু না হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই একসঙ্গে ওআরওপি বাস্তবায়ন জরুরি। তবে একবারে এটি কার্যকর করতে গেলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এককালীন বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। এছাড়া ২০১৯ সালের পূর্বে অবসরে যাওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের হালনাগাদ তথ্যের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে ‘এক পদ এক পেনশন’ পুরোপুরি বাস্তবায়নের পথনকশা গ্রহণ করা হয়েছে।
kalprakash.com/IM