নাটোরের বাগাতিপাড়ায় একটি মসজিদের দানবাক্সের তালা ভেঙে বিপুল পরিমাণ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার ১ নম্বর পাঁকা ইউনিয়নের গালিমপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। চুরির দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়লেও মুখে কাপড় পেঁচিয়ে রাখায় অভিযুক্তদের তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ও মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা যায়, ভোরে মসজিদের পাশের বাড়ির বাসিন্দা মাসিদুল এবং একই সময়ে এক নারী দানবাক্সে টাকা দিতে গিয়ে তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে তাঁরা বিষয়টি মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার কমর উদ্দিনকে জানান। তিনি এসে মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখতে পান, দুই ব্যক্তি মুখে ও মাথায় কাপড় পেঁচিয়ে মাত্র ৭-৮ মিনিটের মধ্যে দানবাক্সের তালা ভেঙে টাকা ব্যাগে ভরে পালিয়ে যায়।
মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার কমর উদ্দিন বলেন, পাশের মাদ্রাসায় শ্রমিক নিয়ে কাজ করানোর সময় খবর পেয়ে এসে দেখি দানবাক্সের তালা ভাঙা এবং ভেতরের সব টাকা উধাও। পরে মসজিদের মাইকে বিষয়টি ঘোষণা করা হয় এবং গ্রামবাসী ও কমিটির সদস্যদের নিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে প্রয়োজনীয় ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।
তিনি আরও জানান, প্রায় এক বছর তিন মাস ধরে দানবাক্সটি খোলা হয়নি। এর আগে তিন মাস পর দানবাক্স খুলে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছিল। ফলে এবার এতে বিপুল অঙ্কের অর্থ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। চোরদের শনাক্তে সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি জানান, কোনো ব্যক্তি তথ্য দিয়ে চোর শনাক্তে সহায়তা করলে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে পুরস্কৃত ও সম্মানিত করা হবে।
মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ মেহেদী হাসান দুলাল বলেন, মসজিদে নিয়মিত বিভিন্ন দান-অনুদান আসে এবং প্রতি শুক্রবার মুসল্লিরাও সাধ্যমতো দান করেন। এই জমানো অর্থ দানবাক্সেই রাখা হতো। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ভোর ৩টা ৫৭ মিনিটে দুই ব্যক্তি দানবাক্সের কাছে আসে এবং তালা ভেঙে ভোর ৪টা ৫ মিনিটে টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে চলে যায়। মুখে কাপড় বাঁধা থাকায় তাদের চেহারা চেনা যায়নি।
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
kalprakash.com/IM