রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ | ৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৯ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ৮:১৫:২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে বিদেশি শিক্ষার্থী, ২০২৫-২৬ সেশনে শূন্য

হ্লাথোয়াইছা চাক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৭
শেয়ার: mail
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে বিদেশি শিক্ষার্থী, ২০২৫-২৬ সেশনে শূন্য

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দেখা যাচ্ছে বিপরীত চিত্র। মানসম্মত আবাসনের সংকট, জটিল ভর্তি প্রক্রিয়া এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে কমছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এমনকি সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সেকশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে রাবিতে স্নাতক পর্যায়ে ৩ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হন (ফার্মেসি বিভাগে ২ জন ও ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগে ১ জন)। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ১ জন ভর্তি হলেও পরবর্তীতে তিনি চলে যান। এরপর ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি।

পরবর্তী দুই শিক্ষাবর্ষে সংখ্যা কিছুটা বেড়ে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ৮ জন (সবাই ভেটেরিনারি বিভাগে) এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন (সিএসই বিভাগে ১ জন ও ভেটেরিনারি বিভাগে ৮ জন)। তবে এর পরই আবার সংখ্যা কমতে শুরু করে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মাত্র ১ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হন এবং সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি।

বর্তমানে রাবিতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন (ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যায় ২, ভেটেরিনারিতে ৩ এবং রসায়নে ১ জন)। এছাড়া এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ে সোমালিয়া ও ভারতের ৬ জন গবেষক অর্থনীতি, ফোকলোর, ইতিহাস ও আরবি বিভাগে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ক্যাম্পাসে আগ্রহ কমার পেছনে সুযোগ-সুবিধার অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা। নেপাল থেকে আসা এক শিক্ষার্থী জানান, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ডরমিটরিতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। ফলে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে অনেকে ফিরে যান। এর পাশাপাশি ভিসা জটিলতা এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতাকেও অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভর্তি সংক্রান্ত জটিলতা বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ জানান, বিদেশি আবেদনকারীদের সনদের স্পষ্টতা না থাকা একটি বড় সমস্যা। সনদগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সত্যায়িত ও অনুবাদ করে পাঠালে যাচাই সহজ হয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মূলধারার মতো পরীক্ষা দিতে হয় না, বরং ফ্যাকাল্টিভিত্তিক গাইডলাইন অনুযায়ী বিভাগ অনুমোদন দিলেই ভর্তি নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক খুরশিদ আলম বলেন, ‘আন্দোলনসহ বিগত সময়ের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী হয়তো ভর্তিপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেননি। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং কীভাবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবারও ক্যাম্পাসে আকৃষ্ট করা যায়, তা নিয়ে একাডেমিক প্রশাসন কাজ করছে।’

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে বিদেশি শিক্ষার্থী, ২০২৫-২৬ সেশনে শূন্য

বিস্তারিত কমেন্টে