বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬ | ২১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ২১ সফর, ১৪৪৮ | রাত ১০:১৮:২৮

অষ্টগ্রামে পল্লী বিদ্যুতের সেবায় চরম ভোগান্তি, দেড় মাসেও মেলেনি নতুন সংযোগ

মোঃ আল-আমিন, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৮
শেয়ার: mail
অষ্টগ্রামে পল্লী বিদ্যুতের সেবায় চরম ভোগান্তি, দেড় মাসেও মেলেনি নতুন সংযোগ

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত অষ্টগ্রাম উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সেবাকে ঘিরে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি ও হয়রানির অভিযোগ চরমে পৌঁছেছে। একদিকে ভৌতিক ও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের বোঝায় জর্জরিত সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন মিটারের জন্য আবেদন করে ঘুরতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের।

উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জমা দেওয়া একাধিক লিখিত অভিযোগ ও আবেদনপত্রের মাধ্যমে প্রশাসনিক এ অনিয়ম ও অবহেলার তথ্য স্পষ্ট উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অষ্টগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা রুবেছ নতুন বিদ্যুৎ মিটারের জন্য পূর্বে একবার আবেদন করলেও অজ্ঞাত কারণে তা বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে তিনি গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে অনলাইনে পুনরায় নতুন সংযোগের আবেদন জানান (আবেদন ট্র্যাকিং নম্বর: ৩৪০৭৬২৬৮৫৫৫৩৯৩৩)। তবে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সেই আবেদনের প্রাথমিক মাঠপর্যায়ের ইনকোয়ারি সম্পন্ন করা হয়নি, মিলেনি বিদ্যুৎ সংযোগও।

ভুক্তভোগী রুবেছ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বারবার অষ্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এরিয়া অফিসে যোগাযোগের পর শুধুই “আজ হবে, কাল হবে” গোছের দায়িত্বজ্ঞানহীন আশ্বাস পেয়েছেন। দীর্ঘ দিন পার হলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

অন্যদিকে, ভৌতিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে উপজেলার দুই গ্রাহক আলাদা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আবেদনকারী ছালমা বেগম (মিটার নং: ৭৯৮৭৯৫৮৫, বই নং: ৫২৫) জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ঘরে মাসিক ব্যবহার ৪০ থেকে ৫০ ইউনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ হলেও হঠাৎ করে চলতি মাসে ২২০ ইউনিট দেখিয়ে ১,৮৬৪ টাকার অবাস্তব বিল পাঠানো হয়েছে। অতিরিক্ত এ বিল পুনঃযাচাই ও মিটার পরীক্ষার জন্য লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

একই ভোগান্তির শিকার হয়েছেন অপর গ্রাহক নিজাম উদ্দিন (হিসাব নং: ১০৩৪০৭৭৫৭৬০০০)। অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল ও ভুয়া বকেয়া প্রদর্শনের বিরুদ্ধে তিনি লিখিত অভিযোগ জানিয়ে সঠিক বিল নির্ধারণ ও প্রয়োজনে মিটার পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, বিল সংশোধনের জন্য লিখিত আবেদন করা হলেও পল্লী বিদ্যুতের কোনো প্রতিনিধি সরজমিনে তদন্তে আসেননি। সাধারণ বা নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো এ ভৌতিক বিল পরিশোধ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনৈতিক সুবিধা বা অতিরিক্ত অর্থ না দিলে নতুন সংযোগের আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলিয়ে রাখা হয়।

বিদ্যুৎ সেবার এমন অনিয়মে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা অনতিবিলম্বে ভুল বিল সংশোধন, ঝুলন্ত আবেদনগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তিসহ অষ্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward