পার্বত্য অঞ্চলের আঞ্চলিক সশস্ত্র দল জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) অব্যাহত চাঁদাবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ফুটে উঠেছে রাঙামাটিতে। দাবি করা ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক বাঙালি কৃষকের ১,৪০০টি ফলন্ত পেঁপেগাছ কেটে স্রেফ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাহাড়ি এই জনপদ।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে বনরূপা সিএনজি স্টেশন চত্বরে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে কাঠালতলী থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
পিসিসিপি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মো. হাবীব আজম, পিসিএনপির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইব্রাহিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে ভুক্তভোগী কৃষক খলিলুর রহমান কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, “পাঁচ বছরের জন্য লিজ নেওয়া জমিতে ১,৮০০টি পেঁপেগাছ লাগিয়েছিলাম। জেএসএস ক্যাডার শান্তি রঞ্জন চাকমার দাবি করা ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় গত বৃহস্পতিবার রাতে আমার ১,৪০০টি ফলন্ত গাছ কেটে সাবাড় করে দেওয়া হয়েছে। এখন আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
বক্তারা জানান, লংগদুতে জেএসএস ক্যাডার দীপেন চাকমা গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে শান্তি রঞ্জন চাকমা এলাকায় চরম বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করে।
সমাবেশ থেকে পিসিসিপি নেতৃবৃন্দ অভিযুক্ত শান্তি রঞ্জন চাকমাসহ জড়িত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে দ্রুত সরকারি অর্থসহায়তা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং চাঁদাবাজি রুখতে লংগদুর শিবেরআগা এলাকায় পুনরায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জোর দাবি জানান। অন্যথায় পাহাড়ি-বাঙালিদের সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
kalprakash.com/IM