মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৯ সফর, ১৪৪৮ | রাত ২:২২:৫৭

ফকিরহাটের গরু চুরির মামলায় বড় সাফল্য: ১১ গরু উদ্ধার, পিকআপ জব্দ, গ্রেপ্তার ৩

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৭
শেয়ার: mail
ফকিরহাটের গরু চুরির মামলায় বড় সাফল্য: ১১ গরু উদ্ধার, পিকআপ জব্দ, গ্রেপ্তার ৩

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের ফকিরহাটে দায়ের হওয়া একটি চাঞ্চল্যকর গরু চুরির মামলার তদন্তে বড় সাফল্য অর্জন করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ঘটনার ধারাবাহিক তদন্তে প্রতিবেশী খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলায় গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া ছোট-বড় ১১টি গরু উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চোরাই গরু পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ এবং আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোর রাত পৌনে ৪টার দিকে তেরখাদা উপজেলার বারাসাত ইউনিয়নের কাটেঙ্গা গ্রামে ডিবি পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে এ উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য অন্তত ১০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফকিরহাট থানায় দায়ের হওয়া গরু চুরির মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি ইমরান শেখ (৪০) ও নাহিদ শেখ (২৭)-কে আদালত থেকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদকালে তাঁদের দেওয়া দেওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই মূলত এই যৌথ উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ প্রথমে ফকিরহাট উপজেলার শিউলি ফিলিং স্টেশন এলাকা থেকে চোরাই গরু পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপটি (খুলনা মেট্রো-ন-১১-২০২২) জব্দ করে। পরবর্তীতে আসামিদের দেখানো পথ অনুযায়ী তেরখাদার কাটেঙ্গা গ্রামের আরিফ মোল্লার বসতবাড়ির গোয়ালঘরে অভিযান চালানো হলে সেখানে চুরি হওয়া ১১টি গরু পাওয়া যায়। এ সময় চোরাই গরু নিজের কাছে হেফাজতে রাখার অভিযোগে গৃহকর্তা আরিফ মোল্লাকেও (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ফকিরহাট উপজেলার শ্যামবাঘাত গ্রামের ইমরান শেখ (৪০), রামপাল উপজেলার সোলাকড়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের নাহিদ শেখ (২৭) এবং খুলনার তেরখাদা উপজেলার কাটেঙ্গা গ্রামের আরিফ মোল্লা (৩৮)।

ডিবি পুলিশের তদন্ত সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃত তিনজনই পেশাদার অপরাধী ও আন্তঃজেলা চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। এদের মধ্যে ইমরান শেখের বিরুদ্ধে হত্যা, সিঁধেল চুরি, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মারামারিসহ ৬টি মামলা রয়েছে। আসামি নাহিদ শেখের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও চুরির ৩টি এবং আরিফ মোল্লার বিরুদ্ধেও চোরাই মাল ক্রয়-বিক্রয়সহ পৃথক ২টির বেশি মামলা বিচারাধীন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, “গরু চুরির ঘটনাটিতে এটি একটি বড় সাফল্য। রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের নিখুঁত সূত্রের ওপর ভিত্তি করেই ১১টি গরু উদ্ধার ও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্য ও মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে ডিবির অভিযান চলমান রয়েছে।”

আইনি প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধারকৃত গরুগুলো তাদের মূল মালিকের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward