সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬ | ১৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৮ সফর, ১৪৪৮ | রাত ১০:৩৪:৫০

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৪% বাড়ল

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩০
শেয়ার: mail
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৪% বাড়ল

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। যুদ্ধের দামামায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাওয়ার খবর বাজারে আরও ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করেছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৩.৭২ ডলার বা ৪.৪ শতাংশ বেড়ে ৮৭.৮১ ডলারে পৌঁছেছে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩.৪৩ ডলার বা ৪.৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২.৬৯ ডলারে।

বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউবিএস (UBS)-এর বাজার বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো জানান, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক হামলা এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’তে নৌযান চলাচলের ওপর ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের অবস্থানের কারণে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি জটিল করে বুধবার ইরান-সমর্থিত বেশ কয়েকটি গোষ্ঠীর ওপর যৌথভাবে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। সৌদি তেলের অবকাঠামোতে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাবেই এই হামলা চালানো হয়।

এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত তাদের সেনাগাঁটিতে সম্ভাব্য একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সফলভাবে নস্যাৎ করার কথা জানায়। অপরদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়, তারা হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত মার্কিন জাহাজ এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালির যৌথ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ওমানের দেওয়া একটি দ্বিপাক্ষিক প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। এক ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কারণে দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে থাকা উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্যিক নৌপথ স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।

চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবাহী জাহাজের পারাপার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। বিকল্প পথ হিসেবে সৌদি আরব লোহিত সাগরের ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালি দিয়ে কিছু অপরিশোধিত তেল এশিয়ায় পাঠানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর আলাদা ফি আরোপের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।

ডিবিএস ব্যাংকের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সুব্রো সরকার এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপরিস্থিতি দ্রুত মোড় নেওয়ার কারণে স্বল্পমেয়াদে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে। কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকলেও এখনই হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই।”

এছাড়াও আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য অনুসারে, ২৪ জুলাই সমাপ্ত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অপরিশোধিত তেলের মজুত এক লাফে প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল কমে গেছে। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, ওপেক প্লাস (OPEC+) জোট আগামী অক্টোবর থেকে তাদের তেল উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে পারে—এমন খবরের প্রভাবও পড়েছে মূল্যবৃদ্ধিতে।

সূত্র: রয়টার্স

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward