মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৯ সফর, ১৪৪৮ | রাত ২:২৩:০২

রাবিতে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি রাকসু ভিপির

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৯
শেয়ার: mail
রাবিতে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি রাকসু ভিপির

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের জেরে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। মঙ্গলবার ২৮ জুলাই রাতে রাকসু ভবনে ভিপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভিপি জাহিদের দাবি, সংবাদমাধ্যমগুলো সংঘর্ষের ঘটনাকে একপাক্ষিক ও ছাত্রলীগের পক্ষে উপস্থাপন করেছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “সংবাদে আপনারা যেসব শব্দ ব্যবহার করছেন, সেগুলোর বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। গতকাল অনেকেই সংবাদে ছাত্রলীগকে ডিফেন্ড (পক্ষপাতিত্ব) করেছেন। এখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে যারা এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন করেছেন, আমরা সেসব প্রতিবেদন সংগ্রহ করছি এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা বলছেন আমরা হামলা করেছি। এটা কীভাবে হামলা হয়? তারা হামলা করেছে, আমরা কেবল প্রতিরোধ করেছি। ‘প্রতিরোধ’ শব্দটি ব্যবহার করতে আপনাদের এত সংকোচ কেন? নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রতি এত মায়াকান্না কেন? সাংবাদিকদের এই পক্ষপাতমূলক ভূমিকার বিরুদ্ধে আমরা কড়া ব্যবস্থা নেব।”

একই সংবাদ সম্মেলনে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার সাংবাদিকদের প্রশ্ন তুলে বলেন, “শব্দ দিয়ে যেমন মানুষকে তৈরি করা যায়, তেমনি ধ্বংসও করা যায়। আমরা যেটাকে প্রতিরোধ বলছি, সেটিকে আপনারা গণমাধ্যমে প্রতিরোধ হিসেবে দেখতে পারছেন না কেন?”

গতকালের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা রাকসু ভবনে যাওয়ার পর সাতজন সেখানে আসে। এদের একজন ভিডিও ধারণ করছিল এবং বাকি ছয়জন অতর্কিত হামলা চালায়। কেউ মারধর করেছে, কেউ অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি দিয়েছে। আমার মনে হয়েছে, উদ্দেশ্য ছিল শুধু শারীরিকভাবে আঘাত করা নয়; সামাজিকভাবে আমাকে হেয় করা।”

ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জিএস বলেন, “আনাস যে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত, তা প্রমাণিত। তার বিরুদ্ধে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, হল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রক্টর অফিসে সে নিজেই স্বীকার করেছে যে, সিটের জন্য হলেও ছাত্রলীগ করেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য হয়ে প্রকাশ্যে পরিচয় দেওয়ার পরও তার প্রতি নরম অবস্থান নেওয়া হচ্ছে কেন?”

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি একসময় জামায়াত-শিবিরবিরোধী নোটিশ দিয়েছে, সে এখন ছাত্রদল করছে এবং দল তাকে আশ্রয় দিচ্ছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীকে রাজনৈতিকভাবে আশ্রয় দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

সংবাদ সম্মেলন থেকে রাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে ৬ দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলো হলো— ১. নারী শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় জড়িত সব অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ; ২. রাকসু ভবন ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনা; ৩. ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ; ৪. ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া; ৫. সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং ৬. অতীতে নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত এবং ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততা থাকা সবার বিচার নিশ্চিত করা।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward