সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬ | ১৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৮ সফর, ১৪৪৮ | রাত ১১:৫৩:৩৮

মোংলা–বাগেরহাট মহাসড়কের ২০ কিলোমিটারজুড়ে বেহাল দশা, দুর্ভোগে যাত্রী ও পরিবহন চালক

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৬
শেয়ার: mail
মোংলা–বাগেরহাট মহাসড়কের ২০ কিলোমিটারজুড়ে বেহাল দশা, দুর্ভোগে যাত্রী ও পরিবহন চালক

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

মোংলা–বাগেরহাট মহাসড়কের প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে খানা-খন্দে ভরে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী, পরিবহন চালক ও ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহনকে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। বারবার সংস্কার করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ায় ভোগান্তির স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালের দিকে বাগেরহাটের কাটাখালী থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়ক নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে খুলনা থেকে দিগরাজ পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার অংশ দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে। আর দিগরাজ থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশ নির্মাণ করে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

মহাসড়কটি চালু হওয়ার পর মোংলা বন্দরের আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনে নৌপথের ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমে যায়। বর্তমানে বন্দরের অধিকাংশ পণ্য এই সড়ক দিয়েই পরিবহন করা হচ্ছে। ফলে ভারী যানবাহনের চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সড়কটি নির্মাণের প্রায় তিন দশক পর প্রথম বড় ধরনের সংস্কার করা হয়। এরপর প্রায় প্রতি দুই থেকে তিন বছর পরপর সংস্কার কাজ হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বারবার নতুন কার্পেটিং করার ফলে সড়কের উচ্চতা বেড়েছে, কিন্তু মূল কাঠামোগত সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই ভারী যানবাহনের চাপে নতুন কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় গর্ত।

বর্তমানে দিগরাজ বাজার থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এবং বেলাই সেতু থেকে কাটাখালী পর্যন্ত আরও প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার মহাসড়ক চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে চলতি বছরে দিগরাজ থেকে বেলাই সেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার অংশে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেছে সওজ বিভাগ।

বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে নিয়মিত মেরামতের জন্য একটি মোবাইল মেইনটেন্যান্স টিম কাজ করছে। কাটাখালী থেকে দিগরাজ পর্যন্ত যেসব অংশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব স্থানে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, উপকূলীয় ও লবণাক্ত পরিবেশে অবস্থিত হওয়ায় জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে সড়কের কার্পেটিং দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে কাটাখালী থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

এদিকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষে শুষ্ক সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পুরো সড়কের ব্যাপক সংস্কার করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward