বাংলাদেশ ০৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে শিশুর মৃত্যু, চার স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে মো. মোরসালিন (১১) নামে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে চার স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (৬ জুলাই) নিহত শিশুর ফুফাতো ভাই ও স্থানীয় সাংবাদিক মেহেদী হাসান মুরাদ বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কাউছার, স্যাকমো (SACMO) নাহিদ, সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছা. নাজমা খাতুন এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছা. রানু বেগমকে।

অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই রাত আনুমানিক ২টার দিকে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে মোরসালিনকে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, রাত ২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি তীব্র ব্যথায় ছটফট করলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সশরীরে দেখতে যাননি।

স্বজনদের অভিযোগ, তারা বারবার দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সদের মাধ্যমে চিকিৎসককে জানাতে অনুরোধ করলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত স্যাকমোর কাছেও সহায়তা চাইলেও তিনি রোগীকে দেখতে যাননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, সকাল ৭টার দিকে শিশুটির মা নিজেই চিকিৎসককে ডেকে আনেন। রোগী পরীক্ষা করে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজনদের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর আইনি দায় এড়াতে সকাল ৭টা ১৯ মিনিটে মৃত শিশুকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার দেখিয়ে ছাড়পত্র প্রস্তুত করা হয়। পরে হাসপাতালে আসা অ্যাম্বুলেন্স চালকও জানান, তিনি পৌঁছানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।

বাদী মেহেদী হাসান মুরাদ বলেন, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ ও ওই সময়ের ডিউটি রেজিস্টার পর্যালোচনা করলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। তিনি দণ্ডবিধির ৩০৪-এ/৩৪ ধারায় নিয়মিত মামলা গ্রহণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ আহম্মেদ বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতসহ দুই দাবিতে রাবিতে বিক্ষোভ

চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে শিশুর মৃত্যু, চার স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

প্রকাশিত: ০৪:২২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে মো. মোরসালিন (১১) নামে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে চার স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (৬ জুলাই) নিহত শিশুর ফুফাতো ভাই ও স্থানীয় সাংবাদিক মেহেদী হাসান মুরাদ বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কাউছার, স্যাকমো (SACMO) নাহিদ, সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছা. নাজমা খাতুন এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছা. রানু বেগমকে।

অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই রাত আনুমানিক ২টার দিকে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে মোরসালিনকে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, রাত ২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি তীব্র ব্যথায় ছটফট করলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সশরীরে দেখতে যাননি।

স্বজনদের অভিযোগ, তারা বারবার দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সদের মাধ্যমে চিকিৎসককে জানাতে অনুরোধ করলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত স্যাকমোর কাছেও সহায়তা চাইলেও তিনি রোগীকে দেখতে যাননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, সকাল ৭টার দিকে শিশুটির মা নিজেই চিকিৎসককে ডেকে আনেন। রোগী পরীক্ষা করে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজনদের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর আইনি দায় এড়াতে সকাল ৭টা ১৯ মিনিটে মৃত শিশুকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার দেখিয়ে ছাড়পত্র প্রস্তুত করা হয়। পরে হাসপাতালে আসা অ্যাম্বুলেন্স চালকও জানান, তিনি পৌঁছানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।

বাদী মেহেদী হাসান মুরাদ বলেন, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ ও ওই সময়ের ডিউটি রেজিস্টার পর্যালোচনা করলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। তিনি দণ্ডবিধির ৩০৪-এ/৩৪ ধারায় নিয়মিত মামলা গ্রহণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ আহম্মেদ বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।