বাংলাদেশ ১২:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন Logo এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতসহ দুই দাবিতে রাবিতে বিক্ষোভ Logo ৬ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার Logo দরজার সামনে মিলল নবজাতক ছেলে শিশু, স্বজনদের খোঁজে পুলিশ Logo ‘ফার্মের মুরগী’ বিতর্কে আত্মপ্রকাশ করল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ Logo মঠবাড়িয়ার আবাসিক হোটেলে অভিযান, মাদকদ্রব্যসহ আটক ২ Logo যাত্রীসংকটে ১৬ জুলাই থেকে যশোর-ঢাকা রুটে ফ্লাইট বন্ধ করছে ইউএস-বাংলা Logo সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণ Logo সাঁথিয়ায় সাংবাদিক আব্দুদ দাইন সরকারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ Logo রুহিয়ায় চুরি হওয়া ষাঁড় গরু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

সাড়ে ২৪ লাখ টাকার ড্রেন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন, পৌরসভার পরিকল্পনা নিয়ে অসন্তোষ

প্রকৃত প্রয়োজন ও স্থানীয়দের মতামত উপেক্ষা করে নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভার একটি ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। তাদের দাবি, পানি নিষ্কাশন সমস্যায় থাকা এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার না দিয়ে মালঞ্চি বাজারে নতুন ড্রেন নির্মাণে প্রায় সাড়ে ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার সবচেয়ে পুরোনো মালঞ্চি বাজারে বাজার কমিটি, ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কোনো ধরনের মতবিনিময় ছাড়াই নতুন ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের পুরোনো ড্রেনটি সংস্কার করলেই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করা সম্ভব ছিল।

বাগাতিপাড়া পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, এডিপি প্রকল্পের আওতায় পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একটি ড্রেন নির্মাণে চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

স্থানীয়রা জানান, মালঞ্চি বাজারের একটি পুরোনো ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে পানি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সামান্য সংস্কার করলেই এটি পুনরায় কার্যকর করা সম্ভব ছিল। কিন্তু সেটি না করে নতুন ড্রেন নির্মাণে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তাদের দাবি, নতুন ড্রেন নির্মাণে ব্যয় করা অর্থের এক-তৃতীয়াংশ দিয়েই পুরোনো ড্রেনটি সংস্কার করা সম্ভব হতো। বাকি অর্থ দিয়ে যেসব এলাকায় এখনো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই, সেসব স্থানে উন্নয়ন কাজ করা হলে বেশি মানুষ উপকৃত হতেন।

স্থানীয় সমাজসেবী ও মালঞ্চি বাজারের ব্যবসায়ী হাসান জাহিদ বাবু সরকার বলেন, “নতুন ড্রেন নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাজারের ব্যবসায়ী বা সংশ্লিষ্ট কারও সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। পুরোনো ড্রেনটি সংস্কার করলে কম খরচে সমস্যার সমাধান সম্ভব ছিল। এতে সরকারি অর্থেরও সাশ্রয় হতো।”

তিনি আরও বলেন, “আগের নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক দায়িত্বে থাকাকালে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে পুরোনো ড্রেন সংস্কারের বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। পরে কীভাবে এই প্রকল্প নেওয়া হলো, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”

মালঞ্চি বাজারের ব্যবসায়ী আবুল হাসনাত মিঠু বলেন, “আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিচ দিয়ে পুরোনো ড্রেন রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেটি অচল হয়ে গেছে। সেটি সংস্কার করলেই পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক করা সম্ভব। নতুন ড্রেন নির্মাণ করতে গেলে অতিরিক্ত কালভার্ট নির্মাণের প্রয়োজন হবে, এতে সরকারি ব্যয় আরও বাড়বে।”

সোনাপাতি মহল্লার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন না থাকায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। অথচ সেসব এলাকার দিকে গুরুত্ব না দিয়ে পুরোনো ড্রেনের পরিবর্তে নতুন ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারি অর্থ জনস্বার্থ বিবেচনায় ব্যয় করা উচিত।”

মালঞ্চি বাজার কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান হবি বলেন, “পৌরসভা বাজারের উন্নয়নে কাজ করবে, এটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। তবে বাজার কমিটির সঙ্গে আলোচনা না করে এমন বড় প্রকল্প নেওয়া দুঃখজনক। স্থানীয়দের মতামত নেওয়া হলে প্রকৃত সমস্যাগুলো আরও ভালোভাবে উঠে আসত।”

এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এএসএম শহিদুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই। পৌরসভার বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে অনুযায়ী কাজ হচ্ছে।”

অভিযোগের বিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক দেবাশীষ বসাক বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছে। পুরো বাজারে যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, তা নিরসনের জন্যই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ড্রেনটি বাজারের অধিকাংশ এলাকার ওপর দিয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা কমবে বলে আশা করছি।”

জনপ্রিয় সংবাদ

কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন

সাড়ে ২৪ লাখ টাকার ড্রেন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন, পৌরসভার পরিকল্পনা নিয়ে অসন্তোষ

প্রকাশিত: ০৩:৪০:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

প্রকৃত প্রয়োজন ও স্থানীয়দের মতামত উপেক্ষা করে নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভার একটি ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। তাদের দাবি, পানি নিষ্কাশন সমস্যায় থাকা এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার না দিয়ে মালঞ্চি বাজারে নতুন ড্রেন নির্মাণে প্রায় সাড়ে ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার সবচেয়ে পুরোনো মালঞ্চি বাজারে বাজার কমিটি, ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কোনো ধরনের মতবিনিময় ছাড়াই নতুন ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের পুরোনো ড্রেনটি সংস্কার করলেই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করা সম্ভব ছিল।

বাগাতিপাড়া পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, এডিপি প্রকল্পের আওতায় পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একটি ড্রেন নির্মাণে চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

স্থানীয়রা জানান, মালঞ্চি বাজারের একটি পুরোনো ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে পানি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সামান্য সংস্কার করলেই এটি পুনরায় কার্যকর করা সম্ভব ছিল। কিন্তু সেটি না করে নতুন ড্রেন নির্মাণে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তাদের দাবি, নতুন ড্রেন নির্মাণে ব্যয় করা অর্থের এক-তৃতীয়াংশ দিয়েই পুরোনো ড্রেনটি সংস্কার করা সম্ভব হতো। বাকি অর্থ দিয়ে যেসব এলাকায় এখনো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই, সেসব স্থানে উন্নয়ন কাজ করা হলে বেশি মানুষ উপকৃত হতেন।

স্থানীয় সমাজসেবী ও মালঞ্চি বাজারের ব্যবসায়ী হাসান জাহিদ বাবু সরকার বলেন, “নতুন ড্রেন নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাজারের ব্যবসায়ী বা সংশ্লিষ্ট কারও সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। পুরোনো ড্রেনটি সংস্কার করলে কম খরচে সমস্যার সমাধান সম্ভব ছিল। এতে সরকারি অর্থেরও সাশ্রয় হতো।”

তিনি আরও বলেন, “আগের নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক দায়িত্বে থাকাকালে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে পুরোনো ড্রেন সংস্কারের বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। পরে কীভাবে এই প্রকল্প নেওয়া হলো, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”

মালঞ্চি বাজারের ব্যবসায়ী আবুল হাসনাত মিঠু বলেন, “আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিচ দিয়ে পুরোনো ড্রেন রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেটি অচল হয়ে গেছে। সেটি সংস্কার করলেই পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক করা সম্ভব। নতুন ড্রেন নির্মাণ করতে গেলে অতিরিক্ত কালভার্ট নির্মাণের প্রয়োজন হবে, এতে সরকারি ব্যয় আরও বাড়বে।”

সোনাপাতি মহল্লার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন না থাকায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। অথচ সেসব এলাকার দিকে গুরুত্ব না দিয়ে পুরোনো ড্রেনের পরিবর্তে নতুন ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারি অর্থ জনস্বার্থ বিবেচনায় ব্যয় করা উচিত।”

মালঞ্চি বাজার কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান হবি বলেন, “পৌরসভা বাজারের উন্নয়নে কাজ করবে, এটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। তবে বাজার কমিটির সঙ্গে আলোচনা না করে এমন বড় প্রকল্প নেওয়া দুঃখজনক। স্থানীয়দের মতামত নেওয়া হলে প্রকৃত সমস্যাগুলো আরও ভালোভাবে উঠে আসত।”

এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এএসএম শহিদুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই। পৌরসভার বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে অনুযায়ী কাজ হচ্ছে।”

অভিযোগের বিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক দেবাশীষ বসাক বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছে। পুরো বাজারে যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, তা নিরসনের জন্যই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ড্রেনটি বাজারের অধিকাংশ এলাকার ওপর দিয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা কমবে বলে আশা করছি।”