বাংলাদেশ ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo ‘১৩ মিনিট শ্বাস আটকে রেখেও বেঁচে থাকতে পারি’ Logo নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রমে সম্মানি ও পারিতোষিকের হার পুনর্নির্ধারণ Logo ইউএইর ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন, পর্যটক ও প্রবাসীদের জন্য এলো ৬ নতুন সুবিধা Logo বদর যুদ্ধের আয়াত তেলাওয়াত, আলোচনা কূটনৈতিক বার্তা Logo ওমানে প্রবাসী বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের সঙ্গে দূতাবাসের মতবিনিময় সভা Logo হাওরের জন্য আগাম ধানের জাত উদ্ভাবনের কাজ চলছে: কৃষিমন্ত্রী Logo সার্টিফিকেটে নাম ও জন্ম তারিখ সংশোধন নিয়ে জরুরি নির্দেশনা বোর্ডের Logo সীমান্তে কথিত পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবি ও গ্রামবাসীর তৎপরতায় ব্যর্থ Logo প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেঙে গেছে ব্রিজের সংযোগ সড়ক, স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে পিআইও Logo মোংলায় এনটিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

যুবলীগ নেতাকে আটকের পর থানায় গ্রামবাসীর বিক্ষোভ, ছেড়ে দিতে বাধ্য হলো পুলিশ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় যুবলীগের এক নেতাকে আটক করে থানায় নেওয়ার পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কয়েকশ গ্রামবাসী। পরে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর প্রতিনিধিদের আলোচনার পর আটক রিপন সরকারকে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেয় পুলিশ।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আটক রিপন সরকার (৪০) উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং হাবিবুর সরকারের ছেলে। তিনি পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ভাঙ্গুড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুল ইসলাম পাটুলিপাড়া গ্রাম থেকে নাশকতার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন হিসেবে রিপন সরকারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, টেবুনিয়া-বাঘাবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন পাটুলিপাড়া গ্রামের একটি খাসজমি ও ছোট বাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর সঙ্গে ইউনুস সরকার নামে এক ব্যক্তির বিরোধ চলে আসছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, সরকারি জায়গা দখল করে ইউনুস সরকার সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করেছিলেন। পরে গ্রামবাসী ঘরটি ভেঙে সেখানে পুনরায় মাছের বাজার বসান এবং স্থানটিকে ছোট বাজার ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ব্যানার টাঙান। অন্যদিকে ইউনুস সরকার জায়গাটি নিজের দাবি করে রিপন সরকারসহ কয়েকজন গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

গ্রামবাসীর দাবি, ওই বিরোধে তাদের পক্ষে সক্রিয়ভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন রিপন সরকার। তাঁকে হয়রানি এবং আন্দোলন থামাতেই পুলিশ আটক করেছে। তাদের ধারণা, ইউনুস সরকারের দায়ের করা অভিযোগের কারণেই তাঁকে আটক করা হয়ে থাকতে পারে।

রিপন সরকারকে আটক করে থানায় নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ৩০০ গ্রামবাসী ভাঙ্গুড়া থানায় গিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং তাঁর মুক্তির দাবি জানান। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের থানা চত্বর থেকে বাইরে সরিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এ সময় ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ করে বলেন, আমি যুবলীগের সভাপতিকে নিয়ে এসেছি। আপনারা কেন এসেছেন? আপনারা কি মব করতে চান? এই মুহূর্তে থানা এলাকা ছেড়ে চলে যান।

পরে বিক্ষোভকারীদের পাঁচজন প্রতিনিধিকে নিয়ে ওসির কক্ষে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে রিপন সরকারকে তাঁদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রতিনিধিদল তাঁকে সঙ্গে নিয়ে থানা থেকে গ্রামে ফিরে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম বলেন, নাশকতার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আটক করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় এবং গ্রামবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে তাঁদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
যুবলীগ নেতাকে আটকের পর থানায় গ্রামবাসীর বিক্ষোভ, ছেড়ে দিতে বাধ্য হলো পুলিশ
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

‘১৩ মিনিট শ্বাস আটকে রেখেও বেঁচে থাকতে পারি’

যুবলীগ নেতাকে আটকের পর থানায় গ্রামবাসীর বিক্ষোভ, ছেড়ে দিতে বাধ্য হলো পুলিশ

প্রকাশিত: ০৪:৪৯:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় যুবলীগের এক নেতাকে আটক করে থানায় নেওয়ার পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কয়েকশ গ্রামবাসী। পরে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর প্রতিনিধিদের আলোচনার পর আটক রিপন সরকারকে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেয় পুলিশ।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আটক রিপন সরকার (৪০) উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং হাবিবুর সরকারের ছেলে। তিনি পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ভাঙ্গুড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুল ইসলাম পাটুলিপাড়া গ্রাম থেকে নাশকতার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন হিসেবে রিপন সরকারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, টেবুনিয়া-বাঘাবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন পাটুলিপাড়া গ্রামের একটি খাসজমি ও ছোট বাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর সঙ্গে ইউনুস সরকার নামে এক ব্যক্তির বিরোধ চলে আসছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, সরকারি জায়গা দখল করে ইউনুস সরকার সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করেছিলেন। পরে গ্রামবাসী ঘরটি ভেঙে সেখানে পুনরায় মাছের বাজার বসান এবং স্থানটিকে ছোট বাজার ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ব্যানার টাঙান। অন্যদিকে ইউনুস সরকার জায়গাটি নিজের দাবি করে রিপন সরকারসহ কয়েকজন গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

গ্রামবাসীর দাবি, ওই বিরোধে তাদের পক্ষে সক্রিয়ভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন রিপন সরকার। তাঁকে হয়রানি এবং আন্দোলন থামাতেই পুলিশ আটক করেছে। তাদের ধারণা, ইউনুস সরকারের দায়ের করা অভিযোগের কারণেই তাঁকে আটক করা হয়ে থাকতে পারে।

রিপন সরকারকে আটক করে থানায় নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ৩০০ গ্রামবাসী ভাঙ্গুড়া থানায় গিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং তাঁর মুক্তির দাবি জানান। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের থানা চত্বর থেকে বাইরে সরিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এ সময় ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ করে বলেন, আমি যুবলীগের সভাপতিকে নিয়ে এসেছি। আপনারা কেন এসেছেন? আপনারা কি মব করতে চান? এই মুহূর্তে থানা এলাকা ছেড়ে চলে যান।

পরে বিক্ষোভকারীদের পাঁচজন প্রতিনিধিকে নিয়ে ওসির কক্ষে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে রিপন সরকারকে তাঁদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রতিনিধিদল তাঁকে সঙ্গে নিয়ে থানা থেকে গ্রামে ফিরে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম বলেন, নাশকতার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আটক করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় এবং গ্রামবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে তাঁদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
যুবলীগ নেতাকে আটকের পর থানায় গ্রামবাসীর বিক্ষোভ, ছেড়ে দিতে বাধ্য হলো পুলিশ