নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার সিংড়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় ছুটির পর বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে কোচিং বাণিজ্য করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেই পাঠদান করছেন এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসিক ৩০০ টাকা করে আদায় করছেন।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল প্রায় সাড়ে ৪টায় গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে পাঠদান করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, বিদ্যালয় ছুটির পর নিয়মিতভাবে প্রধান শিক্ষক তাদের পড়ান। এ জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রতি মাসে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়। অনেক দিন ধরেই এ কার্যক্রম চলে আসছে বলেও জানায় তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়ে আসছেন। বিষয়টি অনেকেই জানলেও বিভিন্ন কারণে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না। সরকারি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ব্যক্তিগত আয়ের জন্য ব্যবহার করা ঠিক নয়।
আরেক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এভাবে সরকারি বিদ্যালয়ে টাকা নিয়ে প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ হওয়া উচিত। অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের সেখানে পাঠান। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আরও অনেকেই পড়ান, তাই আমিও পড়াচ্ছি। এলাকার গরিব বাচ্চাদের পড়াই। এবারের মতো মাফ করে দিন, নিউজ করিয়েন না।
এ বিষয়ে নওগাঁর সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এম. এম. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে কোচিং বাণিজ্য করার কোনো নিয়ম নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নওগাঁ প্রতিনিধি 
















