স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় এখনো দূরপাল্লার বাস চলাচলের জন্য কোনো স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড গড়ে ওঠেনি। ফলে বিভিন্ন সড়কের ওপরই গড়ে উঠেছে অনানুষ্ঠানিক বাস, ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড, যা যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি ঝুঁকিও বাড়িয়েছে।
ঢাকার অদূরে সম্ভাবনাময় এই উপজেলায় প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস। স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড না থাকায় যাত্রীদের রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় চলন্ত বাস রাস্তায় সামান্য থেমে যাত্রী তোলে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, সাটুরিয়া-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ‘এসবি লিংক’ (বর্তমানে ঢাকা-নাগরপুর লিংক) পরিবহনের অনেক বাসের অবস্থা জরাজীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন। সিট ও জানালা ভাঙা এসব বাসে ঝুঁকি নিয়েই যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে।
সাটুরিয়া থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যেতে কালামপুর ১৫ কিলোমিটার এবং গোলড়া ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয় সিএনজি বা হ্যালোবাইকে। এতে বাড়তি ভাড়া গুণতে হচ্ছে যাত্রীদের। অনেক সময় সন্ধ্যার পর ভাড়া দ্বিগুণ-তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পয়েন্টে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে।
স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলম হোসেন বলেন, “বাসস্ট্যান্ড না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ঢাকায় যেতে হয়। আগে যেখানে ৫০ টাকায় যাওয়া যেত, এখন ৮০-১০০ টাকা খরচ হয়।”
আরেক যাত্রী আবু সাঈদ বলেন, “ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্য আধা ঘণ্টা বাসের অপেক্ষা করেছি, পরে সিএনজি দিয়ে যেতে হয়েছে। সময়মতো না পৌঁছাতে পেরে সমস্যা হয়েছে। বাসস্ট্যান্ড থাকলে এই ভোগান্তি থাকত না।”
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল হোসেন বলেন, “উন্নয়নের অগ্রাধিকার হিসেবে সাটুরিয়ায় একটি বাসস্ট্যান্ড অত্যন্ত প্রয়োজন।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খান রিতাকে জানানো হয়েছে। তাঁর নির্দেশনায় যাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি 















