বাংলাদেশ ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

ডিম খেয়ে ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা সেদ্ধ ডিম খাওয়ার পর ১১ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে, তবুও ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।

বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের ৯৮ নম্বর পূর্ব ধানসাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত টিফিন হিসেবে শিক্ষার্থীদের সেদ্ধ ডিম বিতরণ করা হয়। ডিম খাওয়ার কিছুক্ষণ পর কয়েকজন শিক্ষার্থী পেটব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও অসুস্থতা অনুভব করে। পরে একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে মোট ১১ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত রায়েন্দা পাঁচরাস্তা এলাকায় অবস্থিত গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা হলো— রুমানা, আব্দুন নূর, রাবেয়া, ফারিয়া, মিতু, সুমা, আফিফা, হুমায়রা, তামান্না, তানজিলা ও সিফা।

হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শাকিল কায়সার জানান, হাসপাতালে আনার পর শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, স্যালাইন ও ওষুধ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং সবাই আশঙ্কামুক্ত।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবারের মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, খাদ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

খাদ্য সরবরাহকারী আলিম আল রাজী মুক্তি জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত দিনে ডিম সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। তাই রবিবার বিদ্যালয়ে ডিম পৌঁছে দেওয়া হয়। তার ধারণা, ওই ডিমের মধ্যে কিছু নষ্ট হয়ে থাকতে পারে এবং সেগুলোই বুধবার রান্না করে পরিবেশন করা হয়েছে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, রবিবার সরবরাহ করা ডিম থেকেই বুধবার শিক্ষার্থীদের জন্য টিফিন প্রস্তুত করা হয়েছিল। তার ধারণা, কয়েকটি ডিমের গুণগত মানের সমস্যার কারণেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনির আহমেদ বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। সরকারি বৈঠকে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানতে পারেননি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অর্থিতা হাওলাদার জানান, ঘটনাটি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসা শেষে শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রশাসনের তদন্তের দিকেই এখন সবার নজর।

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
ডিম খেয়ে ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি
জনপ্রিয় সংবাদ

ডিম খেয়ে ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশিত: ১২:২৩:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা সেদ্ধ ডিম খাওয়ার পর ১১ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে, তবুও ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।

বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের ৯৮ নম্বর পূর্ব ধানসাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত টিফিন হিসেবে শিক্ষার্থীদের সেদ্ধ ডিম বিতরণ করা হয়। ডিম খাওয়ার কিছুক্ষণ পর কয়েকজন শিক্ষার্থী পেটব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও অসুস্থতা অনুভব করে। পরে একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে মোট ১১ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত রায়েন্দা পাঁচরাস্তা এলাকায় অবস্থিত গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা হলো— রুমানা, আব্দুন নূর, রাবেয়া, ফারিয়া, মিতু, সুমা, আফিফা, হুমায়রা, তামান্না, তানজিলা ও সিফা।

হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শাকিল কায়সার জানান, হাসপাতালে আনার পর শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, স্যালাইন ও ওষুধ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং সবাই আশঙ্কামুক্ত।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবারের মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, খাদ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

খাদ্য সরবরাহকারী আলিম আল রাজী মুক্তি জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত দিনে ডিম সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। তাই রবিবার বিদ্যালয়ে ডিম পৌঁছে দেওয়া হয়। তার ধারণা, ওই ডিমের মধ্যে কিছু নষ্ট হয়ে থাকতে পারে এবং সেগুলোই বুধবার রান্না করে পরিবেশন করা হয়েছে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, রবিবার সরবরাহ করা ডিম থেকেই বুধবার শিক্ষার্থীদের জন্য টিফিন প্রস্তুত করা হয়েছিল। তার ধারণা, কয়েকটি ডিমের গুণগত মানের সমস্যার কারণেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনির আহমেদ বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। সরকারি বৈঠকে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানতে পারেননি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অর্থিতা হাওলাদার জানান, ঘটনাটি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসা শেষে শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রশাসনের তদন্তের দিকেই এখন সবার নজর।

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
ডিম খেয়ে ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি