মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ইছামতি নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের সদস্য ও ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ কর্মকাণ্ডের কারণে নদীতীরবর্তী জনপদ ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার বিকেলে সরেজমিনে উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের শোলধারা ভোরবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইছামতি নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এতে নদীতীর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং আশপাশের কয়েকটি বসতবাড়ি ও কৃষিজমি ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনা করে আসছেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে থাকলেও অজ্ঞাত কারণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে অবৈধ ড্রেজার ও মাটি ব্যবসার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর। তিনি প্রশাসনকে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করেই প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছেন রফিকুল ইসলাম।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, “কিছু অসমাপ্ত কাজ ছিল। সেগুলো সম্পন্ন করার জন্য ড্রেজার বসানো হয়েছে।”
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোশতাক হোসেন দীপু বলেন, “সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ধরনের অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ নেই। মাননীয় এমপি মহোদয়ও এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। কেউ যদি অবৈধ ড্রেজার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে ঘিওর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা-তুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি একটি সভায় ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে পরে যোগাযোগ করতে বলেন।
স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে দ্রুত অবৈধ ড্রেজার অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় নদীভাঙনের কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, ভাঙনের ঝুঁকিতে জনপদ
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি 

















