চুয়াডাঙ্গায় অরক্ষিত রেলক্রসিং, লোকবল সংকট, ত্রুটিপূর্ণ ব্যারিয়ার এবং অবৈধ পারাপারের কারণে রেলপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। সম্প্রতি অরক্ষিত একটি রেলগেট পার হওয়ার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় নিরাপদ রেলক্রসিং নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়েছে।
গত ১৮ জুন ২০২৬ বিকেলে তিন যুবক মোটরসাইকেলে চুয়াডাঙ্গা থেকে দর্শনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। দর্শনা উপজেলার দুধপাতিলা এলাকায় অরক্ষিত রেলগেট পার হওয়ার সময় মহানন্দা মেইল ট্রেনের ধাক্কায় সুমন ও রাজ নামে দুই যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন কাদের নামে অপর এক যুবক। পরে তাকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ট্রেনের ইঞ্জিনে মরদেহ দুটি জড়িয়ে প্রায় ২০০ মিটার দূরে ছিটকে পড়ে এবং মোটরসাইকেলটি প্রায় ৫০০ মিটার দূরে গিয়ে পড়ে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলায় বর্তমানে ২৭টি বৈধ ও ৫টি অবৈধ রেলগেট রয়েছে। এছাড়া রেললাইনের ওপর দিয়ে স্থানীয়ভাবে তৈরি প্রায় শতাধিক পারাপারের রাস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বৈধ রেলগেটে তিনজন গেটম্যান থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ গেটে মাত্র একজন বা দুজন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন।
চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে প্রতিদিন আন্তঃনগর, মেইল ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। জেলার ৪০ কিলোমিটার রেলপথজুড়ে প্রতিদিন বৈধ ও অবৈধ রেলক্রসিং ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে জেলায় ট্রেনে কাটা পড়ে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
ঐতিহাসিকভাবে ১৮৬২ সালে কলকাতা থেকে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে প্রথম রেল চলাচল শুরু হয়। এরপর থেকে এ রুটে নিয়মিত ট্রেন চলাচল অব্যাহত রয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অরক্ষিত রেলক্রসিং, পর্যাপ্ত গেটম্যানের অভাব এবং অবৈধ পারাপারের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। দুধপাতিলা রেলগেটের সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা তারই একটি উদাহরণ। তারা দ্রুত নতুন রেলগেট নির্মাণ, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে পথচারী ও যানবাহন চালকদেরও আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
“দুর্ঘটনার বিষয়টি আমরা অবগত আছি। যেখানে গেট ও গেটম্যান নেই, সেখানে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পারাপারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।”
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি 

















