পাবনার চাটমোহরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত পাঁচজনকে হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে উপজেলার হরিপুর বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন হরিপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবলুর রহমান (৪৮), ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান (৪০), ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল মজিদ (৫৭) এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত হোসেন (২৫)। অপর একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম এবং ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি বাবলুর রহমানের অনুসারীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে বাবলুর রহমানের অনুসারীরা একটি সভা করছিলেন। এ সময় সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল লোক অতর্কিত হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন। আহতদের মধ্যে বাবলু পক্ষের বাবলুর রহমান, মিজানুর রহমান মিজান, আব্দুল মজিদসহ পাঁচজন এবং সিরাজুল পক্ষের রাহাত হোসেনসহ তিনজনকে চাটমোহর ও বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত বাবলুর রহমান বলেন, “দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছি। এটি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মেনে নিতে পারছেন না। পূর্ববিরোধের জের ধরে তিনি বিভিন্ন সময় আমাদের বাধা দিয়ে আসছেন। তাঁর অনুসারীরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। এসবের প্রতিবাদ করায় বৃহস্পতিবার রাতে আমাদের শান্তিপূর্ণ সভায় হামলা চালানো হয়েছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ঘটনার সময় আমি হরিপুর বাজারেই ছিলাম না। পরে শুনেছি, এলাকার কিছু দলীয় নেতাকর্মীর মধ্যে আগের বিরোধের জের ধরে মারামারি হয়েছে। এ ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এখন সবাই বিএনপির রাজনীতি করে। তাঁদের মধ্যে আমার সমর্থক কেউ থাকতে পারেন।”
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউর রহমান বলেন, “বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং আহতদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পাবনা প্রতিনিধি 
















