মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী শামীম বিশ্বাস ও লাভলুর পরিবারের অভিযোগ, গত ৯ জুন ভোররাতে উপজেলার হেলাচিয়া বাজার সংলগ্ন উত্তর চানপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়, পার্শ্ববর্তী এলাকার আশরাফ খান মিন্টুর নেতৃত্বে এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে ওমর, ওসমান মাস্টার, খলিলসহ আরও অনেকে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের মতে, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে রাস্তার জন্য নির্ধারিত জমি বাদ দিয়ে বসতবাড়ির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
শামীম বিশ্বাসের চাচা সামছুল হক মোল্লা বলেন, “এখানে কোনো সরকারি রাস্তা বা প্রকল্প নেই। রাস্তা হওয়ার কথা অন্য জায়গা দিয়ে। কিন্তু রাতের আঁধারে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের প্রায় ২০০ শতাংশ জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক মাটি কেটে বাড়িঘরের ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে আমাদের পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়েছে এবং আমার ছেলের হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
শামীমের শাশুড়ি মমতাজ বেগম বলেন, “আমরা অন্য জায়গা দিয়ে রাস্তা দিতে রাজি হয়েছি। কিন্তু তারা রাতের আঁধারে ভেকু দিয়ে ঘরবাড়ি ভেঙে রাস্তা নির্মাণ করছে। আমাদের জমির মাঝখান দিয়ে রাস্তা হলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে। আমরা চাই, আমাদের বাড়ির ওপর দিয়ে রাস্তা না করা হোক এবং যারা ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে তাদের শাস্তি হোক।”
শামীমের মা লাইলী বেগম বলেন, “আমাদের ৪-৫ লাখ টাকার জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। আমার ছেলেরা বিদেশে থাকায় তারা এই সুযোগ নিচ্ছে। আমরা এর বিচার চাই।”
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রেবেকা জানান, ২০২৩ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য মমতাজের বরাদ্দে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে ওই এলাকায় রাস্তার কিছু অংশের মাটি ভরাট করা হয়েছিল। ওই পথে কয়েকজন জমিদাতা জায়গাও ছেড়ে দিয়েছেন। রাস্তা হলে এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে।
এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওমর বলেন, “উক্ত স্থানে সরকারি কোনো রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের বরাদ্দ নেই। তবে ওই এলাকায় কিছু লোক রাস্তা নির্মাণের পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে দাবি করে আসছে।”
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি 

















