মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমে গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। এর ফলে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছে সোনার আন্তর্জাতিক দর।
বুধবার (২৪ জুন) স্পট মার্কেটে সোনার দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮১ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি ১১ জুনের পর সর্বনিম্ন অবস্থান। একই সময়ে আগামী আগস্ট মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনার ফিউচার দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯৮ দশমিক ৭০ ডলারে নেমেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে দুই দেশের মধ্যকার শান্তি চুক্তির কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা সোনার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান সোনার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। ডলারের দাম বাড়লে অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, ফলে চাহিদা কমে যায়।
টেস্টিলাইভের গ্লোবাল ম্যাক্রো বিভাগের প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মূলত যুদ্ধ-পরবর্তী বাজার প্রতিক্রিয়ার ফল। বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ সম্পদ ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজার এখন ধারণা করছে যে চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ অন্তত তিনবার সুদের হার বাড়াতে পারে। কয়েকদিন আগেও যেখানে একবার হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা হচ্ছিল, সেখানে প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি।
বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় (পিসিই) মূল্যসূচকের তথ্যের দিকে। ফেড মূল্যস্ফীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে এই সূচককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি দেখা গেলে সুদের হার আরও বাড়তে পারে, যা সোনার দামের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দাম ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে গেলে পরবর্তী সমর্থন স্তর হতে পারে ৩ হাজার ৮০০ ডলার। দরপতন অব্যাহত থাকলে তা ৩ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্তও নেমে যেতে পারে।
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্য এবং ফেডের সুদের হার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তই সোনার বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে।
অনলাইন ডেস্ক 
















