বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে ২৮০ নম্বর আলীক্ষ্যং মৌজার হাতির ডেরা এলাকা থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ পুতনের একাশি বাগান সংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় স্থানীয়রা একটি মাথার খুলি ও মানবদেহের হাড় দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে আলীক্ষ্যং পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কঙ্কালটি উদ্ধার করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি মাথার খুলি, পায়ের হাড়ের কিছু অংশ, একটি ব্যাগ এবং ব্যাগের ভেতরে থাকা একটি টুথব্রাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন, অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কঙ্কালের অবস্থা দেখে অনেকের ধারণা, ঘটনাটি কয়েক মাস আগের হতে পারে।
বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মো. মনজুর আহসান বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করেছি। কঙ্কালটি ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।”
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, “উদ্ধার হওয়া কঙ্কালের পরিচয় শনাক্তে আমরা কাজ করছি। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তের স্বার্থে সব দিক বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, কঙ্কালটির পরিচয়, মৃত্যুর সময়কাল এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলেও পুলিশ বলছে, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কোনো ধরনের মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বান্দরবান প্রতিনিধি 

















