বাংলাদেশ ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ Logo ইউএনওর বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভ, সেই নারীর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা Logo মণিরামপুরে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন Logo ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়ামকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ Logo চাটমোহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদকসেবীর কারাদণ্ড Logo পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ Logo নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সহকারী শিক্ষিকার বদলির দাবিতে মানববন্ধন Logo সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু Logo তিস্তা মহাপরিকল্পনার একনেক অনুমোদনের দাবিতে পাঁচ জেলায় গণসমাবেশ Logo এক আইডিতে মিলবে সব সেবা

মাদক ও জুয়ারীদের আতঙ্কের নাম ওসি বদিউজ্জামান

তরুণ প্রজন্মের অগ্রগতির অন্যতম অন্তরায় মাদক। মাদকের ভয়াল ছোবলে তরুণ সমাজ যেভাবে অপরাধের দিকে ধাবিত হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিশু, কিশোর, যুবক, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ প্রতিনিয়ত মাদকের শিকার হচ্ছে।

এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদিউজ্জামান মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। তার যোগদানের পর থেকে রুহিয়া থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুহিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, বাল্যবিবাহ ও কিশোর অপরাধ ছিল বড় সমস্যা। তবে ওসি বদিউজ্জামানের নেতৃত্বে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারির ফলে এসব অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। একই সঙ্গে পুলিশের সেবার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থাও বেড়েছে।

বিশেষ করে মাদকবিরোধী অভিযানে গুরুত্ব দেওয়ায় মাদকদ্রব্য উদ্ধার, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং মামলা দায়েরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিযানের মুখে অনেক চিহ্নিত মাদক কারবারি এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছে, আবার অনেকে গ্রেপ্তারও হয়েছে। নতুন কৌশলে মাদক ব্যবসার চেষ্টা করা হলেও পুলিশের কঠোর নজরদারিতে তা প্রতিনিয়ত শনাক্ত হচ্ছে।

জানা যায়, রুহিয়া থানার অন্যতম প্রধান সমস্যা ছিল মাদক। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মাদক নিয়ন্ত্রণকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছিলেন। বিশেষ করে ঢোলারহাট ইউনিয়নের শুকব্রিজ এলাকা ও ব্যারিস্টার বাজারে প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রির অভিযোগ ছিল। এসব এলাকায় ইয়াবার বিস্তারও ছিল ব্যাপক। তবে ওসি বদিউজ্জামান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মাদক কারবারিদের তৎপরতা কমতে শুরু করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “আমরা শুনেছি ওসি সাহেব মাদক ও জুয়া নির্মূলে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। আমরা এমন পুলিশ কর্মকর্তাই চাই, যিনি জনগণের স্বার্থে কাজ করবেন।”

এ বিষয়ে ওসি বদিউজ্জামান বলেন, “আমার প্রধান লক্ষ্য মাদক ব্যবসা বন্ধ করে একটি মাদকমুক্ত রুহিয়া গড়ে তোলা। বলতে পারেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমি জেহাদ ঘোষণা করেছি। এ কারণে অনেকেই ক্ষুব্ধ হলেও আমি আমার অবস্থানে অনড়। যেখান থেকেই অভিযোগ আসছে, সময়ক্ষেপণ না করে সেখানে অভিযান পরিচালনা করছি। ঝুঁকি থাকলেও পিছু হটছি না। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চলেছে। নারী মাদক কারবারিরাও এতে জড়িত। তবে গত কয়েক মাসের অভিযানে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। যতদিন এখানে দায়িত্বে থাকব, মাদকের ব্যাপারে কোনো আপস করব না।”

ওসি বদিউজ্জামান জানান, তিনি প্রায় পাঁচ মাস আগে রুহিয়া থানায় যোগদান করেছেন। এই সময়ে মাদক মামলায় ২৫ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ৩০ জন এবং সাজাপ্রাপ্ত ২০ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে।

নিয়মিত মামলায় আরও ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে পুলিশ চুরি হওয়া গরু ও অটোভ্যান উদ্ধার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৫ কেজি গাঁজা এবং ৪০০ পিস ইয়াবা। এছাড়া চারজন অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার এবং চুরি হওয়া ৬০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ওসি বদিউজ্জামানের ধারাবাহিক অভিযান এবং কঠোর অবস্থানের ফলে রুহিয়া থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
মাদক ও জুয়ারীদের আতঙ্কের নাম ওসি বদিউজ্জামান
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

মাদক ও জুয়ারীদের আতঙ্কের নাম ওসি বদিউজ্জামান

প্রকাশিত: ১১:৩৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

তরুণ প্রজন্মের অগ্রগতির অন্যতম অন্তরায় মাদক। মাদকের ভয়াল ছোবলে তরুণ সমাজ যেভাবে অপরাধের দিকে ধাবিত হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিশু, কিশোর, যুবক, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ প্রতিনিয়ত মাদকের শিকার হচ্ছে।

এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদিউজ্জামান মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। তার যোগদানের পর থেকে রুহিয়া থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুহিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, বাল্যবিবাহ ও কিশোর অপরাধ ছিল বড় সমস্যা। তবে ওসি বদিউজ্জামানের নেতৃত্বে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারির ফলে এসব অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। একই সঙ্গে পুলিশের সেবার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থাও বেড়েছে।

বিশেষ করে মাদকবিরোধী অভিযানে গুরুত্ব দেওয়ায় মাদকদ্রব্য উদ্ধার, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং মামলা দায়েরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিযানের মুখে অনেক চিহ্নিত মাদক কারবারি এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছে, আবার অনেকে গ্রেপ্তারও হয়েছে। নতুন কৌশলে মাদক ব্যবসার চেষ্টা করা হলেও পুলিশের কঠোর নজরদারিতে তা প্রতিনিয়ত শনাক্ত হচ্ছে।

জানা যায়, রুহিয়া থানার অন্যতম প্রধান সমস্যা ছিল মাদক। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মাদক নিয়ন্ত্রণকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছিলেন। বিশেষ করে ঢোলারহাট ইউনিয়নের শুকব্রিজ এলাকা ও ব্যারিস্টার বাজারে প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রির অভিযোগ ছিল। এসব এলাকায় ইয়াবার বিস্তারও ছিল ব্যাপক। তবে ওসি বদিউজ্জামান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মাদক কারবারিদের তৎপরতা কমতে শুরু করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “আমরা শুনেছি ওসি সাহেব মাদক ও জুয়া নির্মূলে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। আমরা এমন পুলিশ কর্মকর্তাই চাই, যিনি জনগণের স্বার্থে কাজ করবেন।”

এ বিষয়ে ওসি বদিউজ্জামান বলেন, “আমার প্রধান লক্ষ্য মাদক ব্যবসা বন্ধ করে একটি মাদকমুক্ত রুহিয়া গড়ে তোলা। বলতে পারেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমি জেহাদ ঘোষণা করেছি। এ কারণে অনেকেই ক্ষুব্ধ হলেও আমি আমার অবস্থানে অনড়। যেখান থেকেই অভিযোগ আসছে, সময়ক্ষেপণ না করে সেখানে অভিযান পরিচালনা করছি। ঝুঁকি থাকলেও পিছু হটছি না। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চলেছে। নারী মাদক কারবারিরাও এতে জড়িত। তবে গত কয়েক মাসের অভিযানে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। যতদিন এখানে দায়িত্বে থাকব, মাদকের ব্যাপারে কোনো আপস করব না।”

ওসি বদিউজ্জামান জানান, তিনি প্রায় পাঁচ মাস আগে রুহিয়া থানায় যোগদান করেছেন। এই সময়ে মাদক মামলায় ২৫ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ৩০ জন এবং সাজাপ্রাপ্ত ২০ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে।

নিয়মিত মামলায় আরও ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে পুলিশ চুরি হওয়া গরু ও অটোভ্যান উদ্ধার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৫ কেজি গাঁজা এবং ৪০০ পিস ইয়াবা। এছাড়া চারজন অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার এবং চুরি হওয়া ৬০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ওসি বদিউজ্জামানের ধারাবাহিক অভিযান এবং কঠোর অবস্থানের ফলে রুহিয়া থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
মাদক ও জুয়ারীদের আতঙ্কের নাম ওসি বদিউজ্জামান