বাংলাদেশ ০৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo নাঈমকে হেনস্তা: লিটন-মিরাজ-শান্ত-মুশফিকদের ক্ষোভ Logo ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশিকে বেনাপোল দিয়ে ফেরত Logo স্বামীকে নিয়ে ট্রলের জবাব দিলেন অভিনেত্রী মিলি Logo পার্লামেন্ট থেকে সচিবালয়—সব জায়গায় হুতুমপেঁচা বসেছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo হয়রানি কমাতে ডিজিটাল কর ব্যবস্থা প্রয়োজন Logo মণিরামপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্কুল শিক্ষার্থী নিহত Logo অপহরণ নয়, ধর্ষণের মামলা এড়াতে ছাত্রশিবির নেতার ‘আত্মগোপন’: পুলিশ Logo লালমনিরহাট চেম্বার নির্বাচনে সভাপতি পদে ভোটগ্রহণ, ব্যবসায়ী মহলে উৎসবের আমেজ Logo রাঙামাটিতে মাশরুম চাষ সম্প্রসারণ বিষয়ক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo এসএমসিতে প্রোগ্রাম অফিসার নিয়োগ

পাবিপ্রবিতে কবি মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা স্মরণে সেমিনার অনুষ্ঠিত

বাংলা একাডেমি ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের যৌথ আয়োজনে কবি মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকার স্মরণে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১-এর গ্যালারি-২-এ এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ও মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মীর হুমায়ুন কবীর, বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এম আব্দুল আলীম, সহযোগী অধ্যাপক ড. তানভীর হায়দার, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মাদ নূরুন্নবী ও খণ্ডকালীন প্রভাষক আরিফা বিশ্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. গিয়াস শামীম, সহকারী অধ্যাপক জোবায়ের আবদুল্লাহ, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. রুহুল আমীন, বাংলা একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা মামুন সিদ্দিকীসহ পাবনার বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিক এবং বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

সেমিনারের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন সেমিনার উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম আব্দুল আলীম। এরপর কবি মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকাকে স্মরণ করে প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তানভীর হায়দার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জোবায়ের আবদুল্লাহ।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন। এছাড়াও আলোচনা করেন সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. রুহুল আমীন এবং বাংলা একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা মামুন সিদ্দিকী।

স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এম আব্দুল আলীম বলেন, “কবি মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা যে শহরে থেকে সাহিত্যসাধনা করেছেন, আমি ঠিক সেই শহরেই বাস করি। তিনি যে বাসাটিতে থাকতেন, তার পাশেই আমার বাসা। তবে মহাকালের বিধানে একশ বছরের ইতিহাস-পরিক্রমায় মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকার সেই স্মৃতিচিহ্ন, সেই বাড়িটি এখন আর নেই। তার সেই বাড়ি না থাকলেও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস এবং বাংলার সংস্কৃতিজগতে তাঁর কীর্তি আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে।

আমি বিস্মিত হই যে, উনিশশ বিশ ও ত্রিশের দশকে পাবনা শহর থেকে একজন নারী কলকাতার আলবার্ট হলে গিয়ে সেখানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেছেন। বনমালী ইনস্টিটিউট, শীতলাই জমিদারবাড়ি, অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরি, পাবনা টাউন হল—এসব স্থানে অনুষ্ঠিত সাহিত্য আসর ও সাহিত্য সম্মেলনে তিনি বহুবার মধ্যমণি হিসেবে আসন গ্রহণ করেছেন। ১৯২৫ সালে পাবনা শহরে এসেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। তাঁর সেই সভায় একমাত্র মুসলিম নারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা। ফলে রাজনীতি, সাহিত্য ও সংস্কৃতির জগৎ—সবখানেই এই মহীয়সী নারীর সরব উপস্থিতি ছিল।

আমি চাই, আমাদের ছেলেমেয়েরা মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকার দেখানো আলোর শিখা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেবে। এই আয়োজনের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি এবং বিভাগের সবাইকে বিশেষভাবে অভিবাদন জানাই।”

সেমিনারের সভাপতি ও বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মীর হুমায়ুন কবীর বলেন, “বাংলা বিভাগে বাংলা একাডেমির এ আয়োজন সত্যিই আমাদের জন্য গৌরবের বিষয়। একই সঙ্গে বাংলা একাডেমির যে কর্মকর্তা প্রতি মুহূর্তে আমার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন, তিনি বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ইমরুল ইউসুফ। আমি তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

বাংলা একাডেমি ইতোমধ্যে আমাদের জানিয়েছেন, আজ এখানে যে দুটি প্রবন্ধ পাঠ করা হয়েছে, সেগুলো তারা আমাদের কাছ থেকে নেবেন এবং সম্ভবত বাংলা একাডেমি যে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করবে, সেখানে আমাদের দুই প্রাবন্ধিকের লেখা স্থান পাবে। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে বলা যায়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একটি ঐতিহাসিক পরিসর তৈরি করতে পেরেছে।

এই অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করেছে আমার শিক্ষার্থীরা। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, পাবনা জেলার সুধীসমাজ এখানে উপস্থিত রয়েছেন। তাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রতিষ্ঠিত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম বলেন, “কোনো জাতির অগ্রযাত্রা কেবল রাজনৈতিক ইতিহাসের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না। সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং জ্ঞানচর্চাও সেই যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। একজন সাহিত্যিক তাঁর সময়কে ধারণ করেন, সমাজের মনস্তত্ত্বকে প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চিন্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা ছিলেন তেমনই একজন সাহিত্যিক, যিনি তাঁর সময়কে অতিক্রম করে আজও আমাদের কাছে প্রাসঙ্গিক।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ ছিল পরিবর্তনের যুগ। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, নারীশিক্ষার প্রসার এবং সামাজিক সংস্কারের নানা ধারা তখন সমাজকে নতুনভাবে রূপান্তরিত করছিল। কিন্তু সে সময় মুসলিম নারীদের সাহিত্যচর্চা ছিল অত্যন্ত সীমিত। সামাজিক রক্ষণশীলতা, শিক্ষার অপ্রতুলতা এবং পারিবারিক প্রতিবন্ধকতা তাঁদের পথকে কঠিন করে তুলেছিল।

এই প্রতিকূল বাস্তবতায় মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা কলম হাতে তুলে নিয়েছিলেন। তিনি শুধু সাহিত্য রচনা করেননি, একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বারও উন্মোচন করেছিলেন। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার শক্তি সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করতে পারে। তিনি বাংলা সাহিত্যে মুসলিম নারী লেখকদের অগ্রপথিকদের অন্যতম। তাঁর কবিতায় মানবতা, দেশপ্রেম, নৈতিকতা, সৌন্দর্যবোধ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের এক অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায়। তাঁর সাহিত্যকর্ম আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সাহিত্য কেবল আবেগের প্রকাশ নয়; এটি সমাজকে দেখার এবং সমাজকে বদলে দেওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।”

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
পাবিপ্রবিতে কবি মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা স্মরণে সেমিনার অনুষ্ঠিত
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

নাঈমকে হেনস্তা: লিটন-মিরাজ-শান্ত-মুশফিকদের ক্ষোভ

পাবিপ্রবিতে কবি মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা স্মরণে সেমিনার অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ০৪:১১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বাংলা একাডেমি ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের যৌথ আয়োজনে কবি মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকার স্মরণে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১-এর গ্যালারি-২-এ এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ও মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মীর হুমায়ুন কবীর, বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এম আব্দুল আলীম, সহযোগী অধ্যাপক ড. তানভীর হায়দার, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মাদ নূরুন্নবী ও খণ্ডকালীন প্রভাষক আরিফা বিশ্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. গিয়াস শামীম, সহকারী অধ্যাপক জোবায়ের আবদুল্লাহ, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. রুহুল আমীন, বাংলা একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা মামুন সিদ্দিকীসহ পাবনার বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিক এবং বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

সেমিনারের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন সেমিনার উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম আব্দুল আলীম। এরপর কবি মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকাকে স্মরণ করে প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তানভীর হায়দার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জোবায়ের আবদুল্লাহ।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন। এছাড়াও আলোচনা করেন সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. রুহুল আমীন এবং বাংলা একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা মামুন সিদ্দিকী।

স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এম আব্দুল আলীম বলেন, “কবি মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা যে শহরে থেকে সাহিত্যসাধনা করেছেন, আমি ঠিক সেই শহরেই বাস করি। তিনি যে বাসাটিতে থাকতেন, তার পাশেই আমার বাসা। তবে মহাকালের বিধানে একশ বছরের ইতিহাস-পরিক্রমায় মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকার সেই স্মৃতিচিহ্ন, সেই বাড়িটি এখন আর নেই। তার সেই বাড়ি না থাকলেও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস এবং বাংলার সংস্কৃতিজগতে তাঁর কীর্তি আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে।

আমি বিস্মিত হই যে, উনিশশ বিশ ও ত্রিশের দশকে পাবনা শহর থেকে একজন নারী কলকাতার আলবার্ট হলে গিয়ে সেখানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেছেন। বনমালী ইনস্টিটিউট, শীতলাই জমিদারবাড়ি, অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরি, পাবনা টাউন হল—এসব স্থানে অনুষ্ঠিত সাহিত্য আসর ও সাহিত্য সম্মেলনে তিনি বহুবার মধ্যমণি হিসেবে আসন গ্রহণ করেছেন। ১৯২৫ সালে পাবনা শহরে এসেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। তাঁর সেই সভায় একমাত্র মুসলিম নারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা। ফলে রাজনীতি, সাহিত্য ও সংস্কৃতির জগৎ—সবখানেই এই মহীয়সী নারীর সরব উপস্থিতি ছিল।

আমি চাই, আমাদের ছেলেমেয়েরা মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকার দেখানো আলোর শিখা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেবে। এই আয়োজনের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি এবং বিভাগের সবাইকে বিশেষভাবে অভিবাদন জানাই।”

সেমিনারের সভাপতি ও বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মীর হুমায়ুন কবীর বলেন, “বাংলা বিভাগে বাংলা একাডেমির এ আয়োজন সত্যিই আমাদের জন্য গৌরবের বিষয়। একই সঙ্গে বাংলা একাডেমির যে কর্মকর্তা প্রতি মুহূর্তে আমার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন, তিনি বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ইমরুল ইউসুফ। আমি তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

বাংলা একাডেমি ইতোমধ্যে আমাদের জানিয়েছেন, আজ এখানে যে দুটি প্রবন্ধ পাঠ করা হয়েছে, সেগুলো তারা আমাদের কাছ থেকে নেবেন এবং সম্ভবত বাংলা একাডেমি যে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করবে, সেখানে আমাদের দুই প্রাবন্ধিকের লেখা স্থান পাবে। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে বলা যায়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একটি ঐতিহাসিক পরিসর তৈরি করতে পেরেছে।

এই অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করেছে আমার শিক্ষার্থীরা। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, পাবনা জেলার সুধীসমাজ এখানে উপস্থিত রয়েছেন। তাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রতিষ্ঠিত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম বলেন, “কোনো জাতির অগ্রযাত্রা কেবল রাজনৈতিক ইতিহাসের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না। সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং জ্ঞানচর্চাও সেই যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। একজন সাহিত্যিক তাঁর সময়কে ধারণ করেন, সমাজের মনস্তত্ত্বকে প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চিন্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা ছিলেন তেমনই একজন সাহিত্যিক, যিনি তাঁর সময়কে অতিক্রম করে আজও আমাদের কাছে প্রাসঙ্গিক।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ ছিল পরিবর্তনের যুগ। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, নারীশিক্ষার প্রসার এবং সামাজিক সংস্কারের নানা ধারা তখন সমাজকে নতুনভাবে রূপান্তরিত করছিল। কিন্তু সে সময় মুসলিম নারীদের সাহিত্যচর্চা ছিল অত্যন্ত সীমিত। সামাজিক রক্ষণশীলতা, শিক্ষার অপ্রতুলতা এবং পারিবারিক প্রতিবন্ধকতা তাঁদের পথকে কঠিন করে তুলেছিল।

এই প্রতিকূল বাস্তবতায় মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা কলম হাতে তুলে নিয়েছিলেন। তিনি শুধু সাহিত্য রচনা করেননি, একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বারও উন্মোচন করেছিলেন। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার শক্তি সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করতে পারে। তিনি বাংলা সাহিত্যে মুসলিম নারী লেখকদের অগ্রপথিকদের অন্যতম। তাঁর কবিতায় মানবতা, দেশপ্রেম, নৈতিকতা, সৌন্দর্যবোধ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের এক অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায়। তাঁর সাহিত্যকর্ম আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সাহিত্য কেবল আবেগের প্রকাশ নয়; এটি সমাজকে দেখার এবং সমাজকে বদলে দেওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।”

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
পাবিপ্রবিতে কবি মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা স্মরণে সেমিনার অনুষ্ঠিত