বাংলাদেশ ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ভারতীয় পতাকার আদলে গাছে রং, সমালোচনার মুখে মুছে ফেললেন আওয়ামী লীগ নেতা আরিফুর

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বাজার থেকে বদলগাছী সড়কের পাশে গাছে ভারতীয় পতাকার আদলে রং করার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাইগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতা ও রাইগাঁ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আরিফুর রহমানের উদ্যোগে সড়কের পাশের প্রায় ১ কিলোমিটার গাছে ভারতীয় পতাকার আদলে রং করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি–বদলগাছী আঞ্চলিক সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে রাস্তার পাশের গাছগুলোতে রং করা হয়। তবে ভারতীয় জাতীয় পতাকার রঙের সঙ্গে মিল রেখে রং ব্যবহার করা হলে বিষয়টি পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। পরে এসব গাছের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।

এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে অন্য একটি দেশের জাতীয় পতাকার আদলে রং করা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে একজন জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছ থেকে এমন কর্মকাণ্ড প্রত্যাশিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।

স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে সবাইকে আরও বেশি সতর্ক ও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন। তারা বলেন, সৌন্দর্যবর্ধনের নামে এমন রং ব্যবহার করার আগে বিষয়টি নিয়ে আরও চিন্তাভাবনা করা উচিত ছিল। একজন জনপ্রতিনিধির যেকোনো কাজ সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা বহন করে। তাই দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আরও সচেতন থাকা জরুরি।

তবে সমালোচনার মুখে গাছগুলোতে পুনরায় লাল রং করে আগের রং ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর দ্রুতই রং পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাইগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতা ও রাইগাঁ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান বলেন, আমি ঢাকা থেকে এসে আপনার সঙ্গে দেখা করব।

এ বিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি না জেনে করেছেন বলে জানিয়েছেন এবং নিজেই তা মুছে দেওয়ার কথা বলেছেন। তাকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রশাসন সর্বদা সজাগ আছে।

স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, জনস্বার্থ ও জাতীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি সড়ক, গাছ বা জনসম্পৃক্ত স্থাপনায় রং করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও তদারকি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঘটনাটি বর্তমানে মহাদেবপুরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই এটিকে অসচেতনতার ফল বলে মনে করলেও, অন্যরা বিষয়টিকে দায়িত্বহীনতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিতর্কিত রং অপসারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ নেতা আরিফুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

kalprakash.com/SAS

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ভারতীয় পতাকার আদলে গাছে রং, সমালোচনার মুখে মুছে ফেললেন আওয়ামী লীগ নেতা আরিফুর
জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশিকে বেনাপোল দিয়ে ফেরত

ভারতীয় পতাকার আদলে গাছে রং, সমালোচনার মুখে মুছে ফেললেন আওয়ামী লীগ নেতা আরিফুর

প্রকাশিত: ০২:২৬:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বাজার থেকে বদলগাছী সড়কের পাশে গাছে ভারতীয় পতাকার আদলে রং করার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাইগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতা ও রাইগাঁ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আরিফুর রহমানের উদ্যোগে সড়কের পাশের প্রায় ১ কিলোমিটার গাছে ভারতীয় পতাকার আদলে রং করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি–বদলগাছী আঞ্চলিক সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে রাস্তার পাশের গাছগুলোতে রং করা হয়। তবে ভারতীয় জাতীয় পতাকার রঙের সঙ্গে মিল রেখে রং ব্যবহার করা হলে বিষয়টি পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। পরে এসব গাছের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।

এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে অন্য একটি দেশের জাতীয় পতাকার আদলে রং করা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে একজন জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছ থেকে এমন কর্মকাণ্ড প্রত্যাশিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।

স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে সবাইকে আরও বেশি সতর্ক ও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন। তারা বলেন, সৌন্দর্যবর্ধনের নামে এমন রং ব্যবহার করার আগে বিষয়টি নিয়ে আরও চিন্তাভাবনা করা উচিত ছিল। একজন জনপ্রতিনিধির যেকোনো কাজ সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা বহন করে। তাই দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আরও সচেতন থাকা জরুরি।

তবে সমালোচনার মুখে গাছগুলোতে পুনরায় লাল রং করে আগের রং ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর দ্রুতই রং পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাইগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতা ও রাইগাঁ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান বলেন, আমি ঢাকা থেকে এসে আপনার সঙ্গে দেখা করব।

এ বিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি না জেনে করেছেন বলে জানিয়েছেন এবং নিজেই তা মুছে দেওয়ার কথা বলেছেন। তাকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রশাসন সর্বদা সজাগ আছে।

স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, জনস্বার্থ ও জাতীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি সড়ক, গাছ বা জনসম্পৃক্ত স্থাপনায় রং করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও তদারকি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঘটনাটি বর্তমানে মহাদেবপুরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই এটিকে অসচেতনতার ফল বলে মনে করলেও, অন্যরা বিষয়টিকে দায়িত্বহীনতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিতর্কিত রং অপসারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ নেতা আরিফুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

kalprakash.com/SAS

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ভারতীয় পতাকার আদলে গাছে রং, সমালোচনার মুখে মুছে ফেললেন আওয়ামী লীগ নেতা আরিফুর