দেশজুড়ে চলছে মধুমাস। জ্যৈষ্ঠ মাসের আগমনে বাজারে উঠতে শুরু করেছে নানা রকম সুস্বাদু ও রসালো মৌসুমি ফল।
ইতোমধ্যে বেনাপোলের বাজারগুলোতে আম ও লিচুর সমারোহ দেখা গেলেও তীব্র দাবদাহের কারণে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় ফল তালশাঁসের। প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে ও তৃষ্ণা মেটাতে শার্শার মানুষ এখন ঝুঁকছেন তালশাঁসের দিকে।
বেনাপোল রেলস্টেশন রোড, হাইস্কুল মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে ভ্যানগাড়িতে করে তালশাঁস বিক্রি করছেন অসংখ্য বিক্রেতা। শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও পথচারীরা গরম থেকে স্বস্তি পেতে তালশাঁস কিনছেন।
জানা গেছে, বেনাপোল ও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে এসব তালশাঁস। পরে সেগুলো শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এনে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। চলমান তীব্র তাপদাহে বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে বলে জানান তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বেনাপোল পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভ্যানে করে তালশাঁস বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। তাদের একজন জানান, প্রতি পিস তালশাঁস ৫ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। একটি তালে সাধারণত তিনটি শাঁস থাকায় পুরো তাল বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়।
তিনি বলেন, গরমের সময় তালশাঁসের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। ছোট-বড় সব বয়সের মানুষই এটি খেতে পছন্দ করেন। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পিস তালশাঁস বিক্রি করি। এবার গরম বেশি হওয়ায় বিক্রিও বেশি হচ্ছে।
রেজাউলসহ আরও অনেক বিক্রেতাকে ডিহি, লক্ষণপুর, নিজামপুর ও বাজারসংলগ্ন এলাকায় তালশাঁস বিক্রি করতে দেখা গেছে। কেউ ভ্যানে, আবার কেউ রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে এই ফল বিক্রি করছেন।
শার্শা এলাকায় কাজের ফাঁকে তালশাঁস খেতে দেখা যায় নির্মাণশ্রমিক মোহাম্মদ আলীকে। তিনি বলেন, সারাদিন রোদের মধ্যে কাজ করতে হয়। গরমে শরীর খুব ক্লান্ত হয়ে যায়। তালশাঁস খেলে শরীর ঠান্ডা লাগে এবং কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।
অন্যদিকে নাভারণ বাজারে কেনাকাটা করতে এসে তালশাঁস খাচ্ছিলেন আকিজ কলেজের শিক্ষার্থী রাইয়ান। তিনি বলেন, প্রচণ্ড গরমে তালশাঁস খুবই আরাম দেয়। এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনি শরীরের জন্যও উপকারী। তাই গরমে সুযোগ পেলেই খাই।
ক্রেতা মো. ওহিদুল ইসলাম বলেন, “তাল গরমের অন্যতম জনপ্রিয় ফল। এর শাঁস ও রস খুবই সুস্বাদু এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। তাই পরিবারের জন্য নিয়মিত কিনতে আসি।”
চিকিৎসকদের মতে, তালশাঁসে প্রচুর পানি ও প্রাকৃতিক খনিজ উপাদান থাকায় এটি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি শরীর ঠান্ডা রাখতেও কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ফলে তীব্র গরমে মানুষের কাছে তালশাঁস অন্যতম জনপ্রিয় ফল হয়ে উঠেছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাস এলেই তালকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের বাজারগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং অনেকের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে তাল ব্যবসা ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাল শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর ফল। গরমে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতেও তাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, অনেকেই নিয়মিত বাজারে তাল কিনতে আসেন। স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে পরিবারের চাহিদা পূরণে দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা এখানে আসেন। তাল একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল।
তিনি আরও জানান, উপজেলায় বর্তমানে মোট ১৫ হাজার ১২২টি তালগাছ রয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের হিসাব অনুযায়ী তালগাছের সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৯২২টি এবং নতুন করে ১ হাজার ২০০টি তালগাছ রোপণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, চলমান দাবদাহ অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে তালশাঁসের চাহিদা আরও বাড়বে।
kalprakash.com/SAS
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি 
















