বাংলাদেশ ০৬:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

মানসিক চাপ যেভাবে ব্রণ ও চর্মরোগের সমস্যা বাড়াতে পারে

সংগৃহীত ছবি

ব্রেকআপের পর হঠাৎ একজিমার সমস্যা বেড়ে যাওয়া কিংবা বাসা বদলের চাপ সামলাতে গিয়ে মুখে ব্রণের ছড়াছড়ি—এ ধরনের ঘটনা অনেকেই জীবনে অনুভব করেন। প্রথমে বিষয়টিকে কাকতালীয় মনে হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এর পেছনে রয়েছে মন ও ত্বকের গভীর ও জটিল সম্পর্ক।

দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, মানসিক চাপ ত্বকের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে চর্মরোগের চিকিৎসায় এখন মস্তিষ্ক ও ত্বকের এই সংযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। লন্ডনের সাইকোডার্মাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. আলিয়া আহমেদ বলেন, শারীরিক ও মানসিক দুই ধরনের চাপই ত্বকের অবস্থাকে প্রভাবিত করে। তাই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা অনেক সময় রোগীর জীবনযাপন, ঘুম, খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক অবস্থাও বিশ্লেষণ করেন।

চিকিৎসকদের মতে, মানবদেহের বিকাশের সময় একই ধরনের কোষ থেকে মস্তিষ্ক ও ত্বকের উৎপত্তি হয়, তাই এদের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। যখন মানুষ মানসিক চাপে থাকে, তখন মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা অংশ সক্রিয় হয়ে হাইপোথ্যালামাসে সংকেত পাঠায়। এর ফলে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়ে রক্তে প্রবেশ করে।

এই হরমোনগুলো শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়। ফলে ত্বক আর্দ্রতা হারায় এবং ধুলোবালি বা অ্যালার্জেন সহজেই প্রবেশ করে সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে তোলে। একই সঙ্গে মানসিক চাপ ত্বকের সেবাসিয়াস গ্ল্যান্ডকে অতিরিক্ত সিবাম (তেল) উৎপাদনে উদ্দীপিত করে, যা লোমকূপ বন্ধ করে ব্রণের সৃষ্টি করে।

এছাড়া মানসিক চাপ শরীরের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকেরা একে একটি ‘দুষ্টচক্র’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, যেখানে চুলকানি থেকে শুরু করে ঘষাঘষি আরও ক্ষতি করে এবং মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রজিতা সিনহার মতে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ মাথাব্যথা, অনিদ্রা ও খিটখিটে মেজাজের মতো সমস্যাও তৈরি করে। এ অবস্থায় নিয়মিত ব্যায়াম, মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব অভ্যাস কর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, শুধু মানসিক চাপ কমালেই নয়, ত্বকের বাহ্যিক যত্ন, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত জীবনযাত্রাও জরুরি। মন ভালো থাকলে তার ইতিবাচক প্রভাব ত্বকেও প্রতিফলিত হয়—এটাই সাইকোডার্মাটোলজির মূল বার্তা।

kalprakash.com/SS

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
মানসিক চাপ যেভাবে ব্রণ ও চর্মরোগের সমস্যা বাড়াতে পারে
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

মানসিক চাপ যেভাবে ব্রণ ও চর্মরোগের সমস্যা বাড়াতে পারে

প্রকাশিত: ০৪:৩৬:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

ব্রেকআপের পর হঠাৎ একজিমার সমস্যা বেড়ে যাওয়া কিংবা বাসা বদলের চাপ সামলাতে গিয়ে মুখে ব্রণের ছড়াছড়ি—এ ধরনের ঘটনা অনেকেই জীবনে অনুভব করেন। প্রথমে বিষয়টিকে কাকতালীয় মনে হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এর পেছনে রয়েছে মন ও ত্বকের গভীর ও জটিল সম্পর্ক।

দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, মানসিক চাপ ত্বকের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে চর্মরোগের চিকিৎসায় এখন মস্তিষ্ক ও ত্বকের এই সংযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। লন্ডনের সাইকোডার্মাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. আলিয়া আহমেদ বলেন, শারীরিক ও মানসিক দুই ধরনের চাপই ত্বকের অবস্থাকে প্রভাবিত করে। তাই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা অনেক সময় রোগীর জীবনযাপন, ঘুম, খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক অবস্থাও বিশ্লেষণ করেন।

চিকিৎসকদের মতে, মানবদেহের বিকাশের সময় একই ধরনের কোষ থেকে মস্তিষ্ক ও ত্বকের উৎপত্তি হয়, তাই এদের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। যখন মানুষ মানসিক চাপে থাকে, তখন মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা অংশ সক্রিয় হয়ে হাইপোথ্যালামাসে সংকেত পাঠায়। এর ফলে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়ে রক্তে প্রবেশ করে।

এই হরমোনগুলো শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়। ফলে ত্বক আর্দ্রতা হারায় এবং ধুলোবালি বা অ্যালার্জেন সহজেই প্রবেশ করে সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে তোলে। একই সঙ্গে মানসিক চাপ ত্বকের সেবাসিয়াস গ্ল্যান্ডকে অতিরিক্ত সিবাম (তেল) উৎপাদনে উদ্দীপিত করে, যা লোমকূপ বন্ধ করে ব্রণের সৃষ্টি করে।

এছাড়া মানসিক চাপ শরীরের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকেরা একে একটি ‘দুষ্টচক্র’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, যেখানে চুলকানি থেকে শুরু করে ঘষাঘষি আরও ক্ষতি করে এবং মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রজিতা সিনহার মতে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ মাথাব্যথা, অনিদ্রা ও খিটখিটে মেজাজের মতো সমস্যাও তৈরি করে। এ অবস্থায় নিয়মিত ব্যায়াম, মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব অভ্যাস কর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, শুধু মানসিক চাপ কমালেই নয়, ত্বকের বাহ্যিক যত্ন, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত জীবনযাত্রাও জরুরি। মন ভালো থাকলে তার ইতিবাচক প্রভাব ত্বকেও প্রতিফলিত হয়—এটাই সাইকোডার্মাটোলজির মূল বার্তা।

kalprakash.com/SS

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
মানসিক চাপ যেভাবে ব্রণ ও চর্মরোগের সমস্যা বাড়াতে পারে