বাংলাদেশ ০৬:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর উপকার: ইসলামের দৃষ্টিতে মানবিকতার অনন্য শিক্ষা

মানুষের জীবনে এমন অনেক সময় আসে, যখন সে মুখে সাহায্য চায় না, কিন্তু তার নীরবতা, অসহায় দৃষ্টি কিংবা ভাঙা কণ্ঠ তার কষ্টের কথাই বলে। ইসলাম এমন মুহূর্তে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয় এবং এটিকে ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) উম্মতকে মানুষের উপকারে এগিয়ে আসার প্রতি উৎসাহিত করে বলেছেন,

“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের কোনো উপকার করতে সক্ষম হয়, সে যেন তার উপকার করে।”
— (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৬২৪)

এই নির্দেশনা কেবল একটি নৈতিক আহ্বান নয়; বরং একজন মুমিনের স্বাভাবিক দায়িত্ব। কারণ প্রকৃত ঈমান মানুষের অন্তরে সহমর্মিতা সৃষ্টি করে এবং অন্যের কষ্টে তাকে উদাসীন থাকতে দেয় না।

অনেকেই মনে করেন, উপকার মানেই আর্থিক সহযোগিতা। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে উপকারের পরিধি অনেক বিস্তৃত। একটি আন্তরিক পরামর্শ, সহানুভূতির কথা, বিপদে সাহস জোগানো, কারও বোঝা হালকা করা কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করাও নেক কাজের অন্তর্ভুক্ত।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো।”
— (সুরা আল-মায়েদা : ২)

এই আয়াত আমাদের শেখায়, সহযোগিতা হতে হবে কল্যাণ, ন্যায় এবং আল্লাহভীতির কাজে। অন্যায় বা গুনাহের কাজে সহযোগিতা কখনো বৈধ নয়।

অন্যের কল্যাণ কামনা করাও ঈমানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে, তার ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করে।”
— (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৫১৫)

মানুষের উপকার করার প্রতিদান সম্পর্কে রাসুল (সা.) আরও বলেছেন,

“যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে দুনিয়ার কোনো বিপদ থেকে মুক্তি দেবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে একটি বড় বিপদ থেকে মুক্তি দেবেন। … বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে, আল্লাহ ততক্ষণ তার সাহায্যে থাকেন।”
— (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৪৬)

এই হাদিসে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অসাধারণ প্রতিদানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। একজন মানুষ যখন অন্যের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করে, তখন আল্লাহ তায়ালাও তার জীবনের কঠিন সময়গুলো সহজ করে দেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন,

“যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের পার্থিব বিপদসমূহের একটি বিপদ দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বিপদসমূহের একটি বিপদ দূর করবেন।”
— (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২৫)

এ থেকে বোঝা যায়, মানুষের কল্যাণে কাজ করা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়; বরং আখিরাতের মুক্তিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

তাই একজন মুমিনের উচিত নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিকতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা। কারণ মানুষের জন্য করা কোনো নেক কাজই আল্লাহর কাছে বিফলে যায় না। তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে তার উত্তম প্রতিদান প্রদান করেন।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাওফিক দান করুন এবং মানবসেবাকে ইবাদতের অংশ হিসেবে গ্রহণ করার সৌভাগ্য দান করুন। আমিন।

kalprakash.com/SS

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর উপকার: ইসলামের দৃষ্টিতে মানবিকতার অনন্য শিক্ষা
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর উপকার: ইসলামের দৃষ্টিতে মানবিকতার অনন্য শিক্ষা

প্রকাশিত: ০৪:২৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

মানুষের জীবনে এমন অনেক সময় আসে, যখন সে মুখে সাহায্য চায় না, কিন্তু তার নীরবতা, অসহায় দৃষ্টি কিংবা ভাঙা কণ্ঠ তার কষ্টের কথাই বলে। ইসলাম এমন মুহূর্তে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয় এবং এটিকে ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) উম্মতকে মানুষের উপকারে এগিয়ে আসার প্রতি উৎসাহিত করে বলেছেন,

“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের কোনো উপকার করতে সক্ষম হয়, সে যেন তার উপকার করে।”
— (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৬২৪)

এই নির্দেশনা কেবল একটি নৈতিক আহ্বান নয়; বরং একজন মুমিনের স্বাভাবিক দায়িত্ব। কারণ প্রকৃত ঈমান মানুষের অন্তরে সহমর্মিতা সৃষ্টি করে এবং অন্যের কষ্টে তাকে উদাসীন থাকতে দেয় না।

অনেকেই মনে করেন, উপকার মানেই আর্থিক সহযোগিতা। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে উপকারের পরিধি অনেক বিস্তৃত। একটি আন্তরিক পরামর্শ, সহানুভূতির কথা, বিপদে সাহস জোগানো, কারও বোঝা হালকা করা কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করাও নেক কাজের অন্তর্ভুক্ত।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো।”
— (সুরা আল-মায়েদা : ২)

এই আয়াত আমাদের শেখায়, সহযোগিতা হতে হবে কল্যাণ, ন্যায় এবং আল্লাহভীতির কাজে। অন্যায় বা গুনাহের কাজে সহযোগিতা কখনো বৈধ নয়।

অন্যের কল্যাণ কামনা করাও ঈমানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে, তার ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করে।”
— (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৫১৫)

মানুষের উপকার করার প্রতিদান সম্পর্কে রাসুল (সা.) আরও বলেছেন,

“যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে দুনিয়ার কোনো বিপদ থেকে মুক্তি দেবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে একটি বড় বিপদ থেকে মুক্তি দেবেন। … বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে, আল্লাহ ততক্ষণ তার সাহায্যে থাকেন।”
— (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৪৬)

এই হাদিসে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অসাধারণ প্রতিদানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। একজন মানুষ যখন অন্যের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করে, তখন আল্লাহ তায়ালাও তার জীবনের কঠিন সময়গুলো সহজ করে দেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন,

“যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের পার্থিব বিপদসমূহের একটি বিপদ দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বিপদসমূহের একটি বিপদ দূর করবেন।”
— (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২৫)

এ থেকে বোঝা যায়, মানুষের কল্যাণে কাজ করা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়; বরং আখিরাতের মুক্তিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

তাই একজন মুমিনের উচিত নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিকতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা। কারণ মানুষের জন্য করা কোনো নেক কাজই আল্লাহর কাছে বিফলে যায় না। তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে তার উত্তম প্রতিদান প্রদান করেন।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাওফিক দান করুন এবং মানবসেবাকে ইবাদতের অংশ হিসেবে গ্রহণ করার সৌভাগ্য দান করুন। আমিন।

kalprakash.com/SS

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর উপকার: ইসলামের দৃষ্টিতে মানবিকতার অনন্য শিক্ষা