বাংলাদেশ ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo ওসমান হাদি হত্যা: সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন ১৯ এপ্রিল দাখিলের দিন ধার্য Logo ৪ হাজার কোটি বাজেটের রণবীর কাপুরের ‘রামায়ণ’ সিনেমার প্রথম টিজার প্রকাশ Logo পিকিং ইউনিভার্সিটিতে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য মাস্টার্স ও ডক্টরাল প্রোগ্রাম, আবেদন আহ্বান Logo বারবার তাড়া করেও শাহেদ ড্রোন আটকাতে ব্যর্থ মার্কিন এফ-১৫ Logo জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ শনিবার Logo ইরানের মাটিতে পা রাখলে কেউ জীবিত ফিরবে না: জেনারেল হাতামি Logo বাংলাদেশ জয় দিয়ে এশিয়ান গেমস হকি বাছাইপর্ব শুরু Logo সিমরিন লুবাবার নতুন অধ্যায়: ‘উই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’, বাগদান সম্পন্ন Logo ‘প্রিন্স’ প্রিমিয়ারে শাকিবের আচরণে বিতর্ক, মুখ খুললেন জ্যোতির্ময়ী Logo ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম হু হু করে নেমেছে

তেলের পাম্পে উপচে পড়া ভিড়, সীমা নির্ধারণে বাড়ছে দুর্ভোগ!

রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেনের সীমিত সরবরাহ এবং ক্রয়ে সীমা নির্ধারণের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর আসাদগেটের তালুকদার পাম্প, সোনার বাংলা পাম্প, কল্যাণপুরের খালেক স্টেশন, টেকনিক্যাল ও মাজার রোডের দুটি পাম্প, ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এবং তেজগাঁও এলাকার আরও কয়েকটি পাম্প ঘুরে দেখা যায়—তেল নিতে আসা অনেক যানবাহন চালককে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও পাম্পের সামনে এক কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে।

কল্যাণপুরের খালেক স্টেশন সার্ভিস পাম্পে কথা হয় মোহাম্মদপুর এলাকার ব্যবসায়ী আল আমিনের সঙ্গে। তিনি জানান, গত রাতে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পেট্রোল পাননি। আজ সকালে আবার লাইনে দাঁড়িয়ে আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করে মাত্র দুই লিটার অকটেন পেয়েছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “অধিকাংশ ছোট পাম্প বন্ধ। বড় পাম্পে প্রচণ্ড ভিড়। মাত্র দুই লিটার তেল কিনতে গিয়ে আড়াই ঘণ্টা সময় নষ্ট করতে হয়েছে। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে।”

লাইনে দাঁড়ানো বাইকার ও প্রাইভেটকার চালকরাও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অনেকের মতে, তেল কেনায় সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তালুকদার পাম্পে সাইফুল ইসলাম নামে এক বাইকার বলেন, “জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। মজুতদারি সিন্ডিকেটের অপচেষ্টায় ভোক্তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ফলে অনেকেই বেশি তেল মজুতের চেষ্টা করছেন।”

প্রাইভেটকার চালক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, তেলের লাইনে জায়গা না পেয়ে অনেকেই এখন গ্যাসের লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। এতে গ্যাস নেওয়া যানবাহনের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

শ্যামলী এলাকার সাহিল ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে গ্যাসের পাশাপাশি পেট্রোল পাম্প থাকলেও তেল নিতে আসা যানবাহনগুলোকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

পাম্পটির কর্মচারী মেহেদি জানান, “গতকাল বিকেল পর্যন্ত তেল বিক্রি হয়েছে। এরপর আর তেল নেই। কিন্তু এখনো অনেক যানবাহন লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। তেলের চাপের কারণে গ্যাস নিতে আসা গাড়িগুলোকেও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।”

খালেক পাম্পে লাইনে দাঁড়ানো মোটরসাইকেল চালক ইয়াছিন বলেন, “সরকার বলছে তেলের সংকট নেই। তাহলে তেল কেনার সীমা কেন নির্ধারণ করা হলো? এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।”

এদিকে পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, সীমিত সরবরাহের কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। খালেক স্টেশনের কর্মচারী সুমন বলেন, “তেলের গাড়ি লোড করা আছে। কিন্তু যে পরিমাণ চাপ, তা সামাল দিতে আরও অনেক স্টেশন প্রয়োজন। এখন কয়েকটি স্টেশনেই তেল দেওয়া হচ্ছে, ফলে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে।”

অন্যদিকে ফিলিং স্টেশন কেন্দ্রিক যানজট নিয়ন্ত্রণে বিপাকে পড়েছে পুলিশও। সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইনের কারণে কোথাও কোথাও যানজট ও উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি বলেন, “যানজট নিরসনের পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও নজরদারি করতে হচ্ছে। পাম্প মালিক, শ্রমিক, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় করে লাইন ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। বাইকারদের জন্য আলাদা লাইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে আগামী দিনে মূল সড়ক সংলগ্ন পাম্পগুলোতে যানজট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।”

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

ওসমান হাদি হত্যা: সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন ১৯ এপ্রিল দাখিলের দিন ধার্য

তেলের পাম্পে উপচে পড়া ভিড়, সীমা নির্ধারণে বাড়ছে দুর্ভোগ!

প্রকাশিত: ০৩:২৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেনের সীমিত সরবরাহ এবং ক্রয়ে সীমা নির্ধারণের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর আসাদগেটের তালুকদার পাম্প, সোনার বাংলা পাম্প, কল্যাণপুরের খালেক স্টেশন, টেকনিক্যাল ও মাজার রোডের দুটি পাম্প, ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এবং তেজগাঁও এলাকার আরও কয়েকটি পাম্প ঘুরে দেখা যায়—তেল নিতে আসা অনেক যানবাহন চালককে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও পাম্পের সামনে এক কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে।

কল্যাণপুরের খালেক স্টেশন সার্ভিস পাম্পে কথা হয় মোহাম্মদপুর এলাকার ব্যবসায়ী আল আমিনের সঙ্গে। তিনি জানান, গত রাতে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পেট্রোল পাননি। আজ সকালে আবার লাইনে দাঁড়িয়ে আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করে মাত্র দুই লিটার অকটেন পেয়েছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “অধিকাংশ ছোট পাম্প বন্ধ। বড় পাম্পে প্রচণ্ড ভিড়। মাত্র দুই লিটার তেল কিনতে গিয়ে আড়াই ঘণ্টা সময় নষ্ট করতে হয়েছে। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে।”

লাইনে দাঁড়ানো বাইকার ও প্রাইভেটকার চালকরাও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অনেকের মতে, তেল কেনায় সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তালুকদার পাম্পে সাইফুল ইসলাম নামে এক বাইকার বলেন, “জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। মজুতদারি সিন্ডিকেটের অপচেষ্টায় ভোক্তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ফলে অনেকেই বেশি তেল মজুতের চেষ্টা করছেন।”

প্রাইভেটকার চালক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, তেলের লাইনে জায়গা না পেয়ে অনেকেই এখন গ্যাসের লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। এতে গ্যাস নেওয়া যানবাহনের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

শ্যামলী এলাকার সাহিল ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে গ্যাসের পাশাপাশি পেট্রোল পাম্প থাকলেও তেল নিতে আসা যানবাহনগুলোকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

পাম্পটির কর্মচারী মেহেদি জানান, “গতকাল বিকেল পর্যন্ত তেল বিক্রি হয়েছে। এরপর আর তেল নেই। কিন্তু এখনো অনেক যানবাহন লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। তেলের চাপের কারণে গ্যাস নিতে আসা গাড়িগুলোকেও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।”

খালেক পাম্পে লাইনে দাঁড়ানো মোটরসাইকেল চালক ইয়াছিন বলেন, “সরকার বলছে তেলের সংকট নেই। তাহলে তেল কেনার সীমা কেন নির্ধারণ করা হলো? এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।”

এদিকে পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, সীমিত সরবরাহের কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। খালেক স্টেশনের কর্মচারী সুমন বলেন, “তেলের গাড়ি লোড করা আছে। কিন্তু যে পরিমাণ চাপ, তা সামাল দিতে আরও অনেক স্টেশন প্রয়োজন। এখন কয়েকটি স্টেশনেই তেল দেওয়া হচ্ছে, ফলে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে।”

অন্যদিকে ফিলিং স্টেশন কেন্দ্রিক যানজট নিয়ন্ত্রণে বিপাকে পড়েছে পুলিশও। সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইনের কারণে কোথাও কোথাও যানজট ও উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি বলেন, “যানজট নিরসনের পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও নজরদারি করতে হচ্ছে। পাম্প মালিক, শ্রমিক, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় করে লাইন ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। বাইকারদের জন্য আলাদা লাইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে আগামী দিনে মূল সড়ক সংলগ্ন পাম্পগুলোতে যানজট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।”