বাংলাদেশ ০৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo রাঙ্গামাটিতে এতিমদের মুখে হাসি, বিতরণ করা হলো ঈদ উপহার ও নগদ সহায়তা Logo নাটোরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, থানায় মামলা Logo তিস্তার ভাঙনে শেষ আশ্রয় হারাচ্ছে শতাধিক পরিবার, দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ Logo গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া Logo ঈদে যাত্রীচাপে রাস্তায় কিছু ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলছে: সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম Logo আরাফাতের দিনে কাবার ঠিক ওপরে সূর্য, ৩৩ বছর পর কাবা শরিফে থাকবে না ছায়া Logo ঈদযাত্রায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা, যাত্রী হয়রানি ঠেকাতে মোবাইল টিম: ডিএমপি কমিশনার Logo ভ্যাপসা গরমের পর রাজধানীতে স্বস্তির বৃষ্টি Logo জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় Logo ইসলামী ব্যাংকে আওয়ামী দোসর নিয়োগ, খাল কেটে কুমির আনার শামিল: জামায়াতের সেক্রেটারি

তিস্তার ভাঙনে শেষ আশ্রয় হারাচ্ছে শতাধিক পরিবার, দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

বর্ষার শুরুতেই ফের ভয়াল রূপ ধারণ করেছে তিস্তা। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অবিরাম স্রোতের তোড়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের শখের বাজার ও কালির খামার এলাকায় শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। মওলানা ভাসানী তিস্তা সেতু সড়ক থেকে মাত্র একশ মিটার পূর্বে গত পাঁচ-ছয় দিন ধরে একের পর এক বসতভিটা, ফলজ গাছপালা, বাঁশঝাড়, ভুট্টাখেত ও শাকসবজির জমি নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে সব শেষ হতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শতাধিক পরিবার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। কেউ ঘরের টিন খুলে মাথায় করে নিয়ে যাচ্ছেন, কেউ বাঁশের বেড়া কেটে সরাচ্ছেন। কারও হাতে দরজা-জানালা, কেউ গরু-ছাগল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন অজানার পথে। শিশুদের কান্না, বৃদ্ধদের নীরব দীর্ঘশ্বাস আর নারীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে নদীতীরের বাতাস।

ইতোমধ্যে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ফজলু মিয়া, আলম মিয়া, হাফিজার রহমান, আশেক আলী, বাবলু মিয়া, মঞ্জু মিয়া, খলিল মিয়া, আকবর আলী, বিধবা রহিমা বেগমসহ বহু পরিবার। তাদের বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা সবই গেছে নদীতে।

রহিমা বেগমের বয়স পঁয়ষট্টি। স্বামী নেই, সংসারে একা। এই বয়সে দাঁড়িয়ে দেখছেন তাঁর শেষ আশ্রয়টুকুও গ্রাস করছে তিস্তা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, “আগেও একবার নদীভাঙনে সব হারাইছি। পরে আবার কোনোরকমে ঘর তুলছিলাম। এখন সেই ঘরও নদীতে যাইতেছে। আমার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নাই।”

আবুল কালামের এটি চতুর্থবারের মতো ভাঙনে সব হারানোর ঘটনা। তিনি বলেন, “অনেক কষ্টে বাঁধের ওপর ঘর তুলছিলাম। ধার-দেনা করছি। এখন আবার ভাঙন ঘরের কাছে চলে আসছে। পরিবার নিয়ে কোথায় যামু বুঝতেছি না।”

কৃষক আলম মিয়ার চোখেমুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। তিনি বলেন, “আমার ভুট্টাখেত আর শাকসবজির জমি সব নদীতে যাইতেছে। এই ফসল বিক্রি করেই সংসার চলতো। এখন কিছুই নাই, সামনে কী হবে জানি না।”

ভিটেমাটি হারানো পরিবারগুলোর একটি বড় অংশ এখন খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে। কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে ঠাঁই নিয়েছেন, কেউবা রাস্তার পাশে বা বাঁধের ওপর পলিথিন টানিয়ে অস্থায়ী আশ্রয় বানিয়েছেন। খাবারের সংকট, বিশুদ্ধ পানির অভাব ও স্যানিটেশন সমস্যা মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।

তিস্তার ভাঙন এবারই প্রথম নয়। প্রতিবছর বর্ষায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে নেমে আসা তিস্তার পানি বাংলাদেশে প্রবেশের পর সমতল ভূমিতে তীব্র গতিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই তীরে ব্যাপক ভাঙন সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার ভাঙনে গত এক দশকে গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলায় হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

ভাঙন পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে প্রাণসংকটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম। হঠাৎ তীরের মাটি ধসে পড়লে তিনি স্রোতে তলিয়ে যান। উপস্থিত স্থানীয়রা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে পুরো এলাকায়।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবছর বর্ষায় ভাঙনে সর্বস্ব হারান তারা, কিন্তু স্থায়ী কোনো প্রতিকার নেই। অনেকে ঋণ করে ঘর তুলেছিলেন, সেই ঘরও এখন গেছে নদীতে। জিও ব্যাগ ফেলা, ডাম্পিং কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছেন তারা।

কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মনোয়ার আলম সরকার বলেন, “ভাঙনকবলিত এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, “ভাঙনপীড়িত মানুষের জন্য দ্রুত ত্রাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুনর্বাসনের বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

ভাঙন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান। তিনি বলেন, “দ্রুত জিও ব্যাগ না ফেলা হলে শত শত ঘরবাড়ি আরও বিলীন হয়ে যাবে। তিস্তাপাড়ের মানুষ বছরের পর বছর ভাঙনের শিকার হচ্ছেন। এই দুষ্টচক্র ভাঙতে হলে সরকারকে দ্রুত ও স্থায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।”

যে মানুষ চারবার ভিটেমাটি হারিয়েও আবার নতুন করে ঘর তোলার স্বপ্ন দেখে, তার সাহস ও সহ্যশক্তির তুলনা সত্যিই নেই। কিন্তু তিস্তার অব্যাহত ভাঙন ও অনিশ্চয়তার কাছে প্রতিনিয়ত হার মানছে রহিমা বেগমদের মতো হাজারো জীবন। ভারতের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে; সেই আলোচনার কার্যকর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নদীপাড়ের মানুষের দীর্ঘশ্বাস আর চোখের জল থামার কোনো আশাই নেই।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

রাঙ্গামাটিতে এতিমদের মুখে হাসি, বিতরণ করা হলো ঈদ উপহার ও নগদ সহায়তা

তিস্তার ভাঙনে শেষ আশ্রয় হারাচ্ছে শতাধিক পরিবার, দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

প্রকাশিত: ০২:৪০:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

বর্ষার শুরুতেই ফের ভয়াল রূপ ধারণ করেছে তিস্তা। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অবিরাম স্রোতের তোড়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের শখের বাজার ও কালির খামার এলাকায় শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। মওলানা ভাসানী তিস্তা সেতু সড়ক থেকে মাত্র একশ মিটার পূর্বে গত পাঁচ-ছয় দিন ধরে একের পর এক বসতভিটা, ফলজ গাছপালা, বাঁশঝাড়, ভুট্টাখেত ও শাকসবজির জমি নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে সব শেষ হতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শতাধিক পরিবার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। কেউ ঘরের টিন খুলে মাথায় করে নিয়ে যাচ্ছেন, কেউ বাঁশের বেড়া কেটে সরাচ্ছেন। কারও হাতে দরজা-জানালা, কেউ গরু-ছাগল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন অজানার পথে। শিশুদের কান্না, বৃদ্ধদের নীরব দীর্ঘশ্বাস আর নারীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে নদীতীরের বাতাস।

ইতোমধ্যে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ফজলু মিয়া, আলম মিয়া, হাফিজার রহমান, আশেক আলী, বাবলু মিয়া, মঞ্জু মিয়া, খলিল মিয়া, আকবর আলী, বিধবা রহিমা বেগমসহ বহু পরিবার। তাদের বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা সবই গেছে নদীতে।

রহিমা বেগমের বয়স পঁয়ষট্টি। স্বামী নেই, সংসারে একা। এই বয়সে দাঁড়িয়ে দেখছেন তাঁর শেষ আশ্রয়টুকুও গ্রাস করছে তিস্তা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, “আগেও একবার নদীভাঙনে সব হারাইছি। পরে আবার কোনোরকমে ঘর তুলছিলাম। এখন সেই ঘরও নদীতে যাইতেছে। আমার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নাই।”

আবুল কালামের এটি চতুর্থবারের মতো ভাঙনে সব হারানোর ঘটনা। তিনি বলেন, “অনেক কষ্টে বাঁধের ওপর ঘর তুলছিলাম। ধার-দেনা করছি। এখন আবার ভাঙন ঘরের কাছে চলে আসছে। পরিবার নিয়ে কোথায় যামু বুঝতেছি না।”

কৃষক আলম মিয়ার চোখেমুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। তিনি বলেন, “আমার ভুট্টাখেত আর শাকসবজির জমি সব নদীতে যাইতেছে। এই ফসল বিক্রি করেই সংসার চলতো। এখন কিছুই নাই, সামনে কী হবে জানি না।”

ভিটেমাটি হারানো পরিবারগুলোর একটি বড় অংশ এখন খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে। কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে ঠাঁই নিয়েছেন, কেউবা রাস্তার পাশে বা বাঁধের ওপর পলিথিন টানিয়ে অস্থায়ী আশ্রয় বানিয়েছেন। খাবারের সংকট, বিশুদ্ধ পানির অভাব ও স্যানিটেশন সমস্যা মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।

তিস্তার ভাঙন এবারই প্রথম নয়। প্রতিবছর বর্ষায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে নেমে আসা তিস্তার পানি বাংলাদেশে প্রবেশের পর সমতল ভূমিতে তীব্র গতিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই তীরে ব্যাপক ভাঙন সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার ভাঙনে গত এক দশকে গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলায় হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

ভাঙন পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে প্রাণসংকটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম। হঠাৎ তীরের মাটি ধসে পড়লে তিনি স্রোতে তলিয়ে যান। উপস্থিত স্থানীয়রা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে পুরো এলাকায়।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবছর বর্ষায় ভাঙনে সর্বস্ব হারান তারা, কিন্তু স্থায়ী কোনো প্রতিকার নেই। অনেকে ঋণ করে ঘর তুলেছিলেন, সেই ঘরও এখন গেছে নদীতে। জিও ব্যাগ ফেলা, ডাম্পিং কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছেন তারা।

কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মনোয়ার আলম সরকার বলেন, “ভাঙনকবলিত এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, “ভাঙনপীড়িত মানুষের জন্য দ্রুত ত্রাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুনর্বাসনের বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

ভাঙন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান। তিনি বলেন, “দ্রুত জিও ব্যাগ না ফেলা হলে শত শত ঘরবাড়ি আরও বিলীন হয়ে যাবে। তিস্তাপাড়ের মানুষ বছরের পর বছর ভাঙনের শিকার হচ্ছেন। এই দুষ্টচক্র ভাঙতে হলে সরকারকে দ্রুত ও স্থায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।”

যে মানুষ চারবার ভিটেমাটি হারিয়েও আবার নতুন করে ঘর তোলার স্বপ্ন দেখে, তার সাহস ও সহ্যশক্তির তুলনা সত্যিই নেই। কিন্তু তিস্তার অব্যাহত ভাঙন ও অনিশ্চয়তার কাছে প্রতিনিয়ত হার মানছে রহিমা বেগমদের মতো হাজারো জীবন। ভারতের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে; সেই আলোচনার কার্যকর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নদীপাড়ের মানুষের দীর্ঘশ্বাস আর চোখের জল থামার কোনো আশাই নেই।