আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন—
“আর স্মরণ কর যুন-নূনের (ইউনুস আ.) কথা, যখন সে ক্রুদ্ধ অবস্থায় চলে গিয়েছিল এবং মনে করেছিল আমি তার ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করব না। এরপর সে অন্ধকারের মধ্যে ডেকে বলেছিল, আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।”
(সুরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ৮৭)
আল্লাহর নবী ইউনুস (আ.)-এর ঘটনাটি কোরআনের বিভিন্ন সুরায় বর্ণিত হয়েছে। তাকে ‘যুন-নূন’ বা ‘সাহিবুল হুত’ বলা হয়, যার অর্থ মাছের সঙ্গী।
ঘটনাটির সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট
তাফসির অনুযায়ী, ইউনুস (আ.) তার জাতিকে দীর্ঘদিন দাওয়াত দেন এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে। কিন্তু তারা অবাধ্যতা ও শিরকে অটল থাকে। পরে তিনি তাদের আল্লাহর আজাবের সতর্কবার্তা দিয়ে জনপদ ত্যাগ করেন।
এরপর তার জাতি সত্যিই ভয় পেয়ে খাঁটি তওবা করে এবং আল্লাহ তাদের আজাব উঠিয়ে নেন। কিন্তু ইউনুস (আ.) তখন তা জানতেন না এবং ধারণা করেছিলেন তারা ধ্বংস হয়ে গেছে। পরে পরিস্থিতি বুঝে তিনি একটি নৌকায় যাত্রা করেন।
সমুদ্রের ঘটনা ও পরীক্ষা
সমুদ্রে নৌকাটি ঝড়ের কবলে পড়ে। লটারির মাধ্যমে বারবার তার নাম ওঠে। শেষ পর্যন্ত তিনি আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হয়ে পানিতে ঝাঁপ দেন। তখন আল্লাহর নির্দেশে একটি বিশাল মাছ তাকে গিলে ফেলে।
তবে এটি ছিল শাস্তি নয়, বরং একটি বিশেষ পরীক্ষা ও নিরাপত্তার স্থান। তিনি তিনটি অন্ধকারে ছিলেন—সমুদ্রের অন্ধকার, মাছের পেটের অন্ধকার এবং রাতের অন্ধকার।
দোয়া ও মুক্তি
এই কঠিন অবস্থায় তিনি আল্লাহর দিকে ফিরে যান এবং গভীরভাবে দোয়া করেন—
“লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ-জালিমিন”
অর্থ: আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি অন্যায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।
এই আন্তরিক তওবার কারণে আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন এবং তাকে মাছের পেট থেকে নিরাপদে বের করে আনেন।
শিক্ষা
এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়—
আল্লাহর রহমত সবসময় বান্দার জন্য উন্মুক্ত
বিপদে সবচেয়ে বড় আশ্রয় হলো তওবা ও দোয়া
ধৈর্য ও আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা ঈমানের অংশ
নবীদের জীবনও মানবীয় শিক্ষা ও হিকমতে পরিপূর্ণ
এই ঘটনা মুমিনদের জন্য এক গভীর শিক্ষা যে, যত বড় বিপদই আসুক, আল্লাহর দিকে ফিরে গেলে মুক্তির পথ সবসময় খোলা থাকে।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 

























