বাংলাদেশ ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

২০ মাস ধরে নেতৃত্বশূন্য এফবিসিসিআই, ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ

দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই এখন দীর্ঘ ২০ মাস ধরে নির্বাচিত নেতৃত্ব ছাড়াই চলছে। প্রশাসক দিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম চললেও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর ব্যবসায়ী প্রতিনিধিত্ব না থাকায় ব্যবসায়ী মহলে বাড়ছে উদ্বেগ।

ব্যবসায়ীদের দাবি, মূল্যস্ফীতি, উচ্চ সুদের হার, জ্বালানি সংকট এবং আমদানি–রপ্তানি জটিলতার এই সংকটময় সময়ে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় ও দর-কষাকষির জন্য কার্যকর একটি ফোরাম না থাকায় ক্ষুদ্র ও বড় উভয় উদ্যোক্তাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংগঠনটির তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম পদত্যাগ করেন। এরপর ১১ সেপ্টেম্বর পর্ষদ বাতিল করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রশাসক নিয়োগ দেয়। তারপর থেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়া বারবার থমকে আছে।

নতুন বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা সংশোধনকে কেন্দ্র করে মূলত এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সংশোধিত নিয়মে পরিচালনা পর্ষদের কাঠামো পরিবর্তন এবং টানা দুই মেয়াদের বেশি থাকার বিধিনিষেধ যুক্ত হওয়ায় অনেক প্রভাবশালী নেতা নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে পড়েন। এ নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হলে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।

পরবর্তীতে প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান দায়িত্ব পালন করলেও মেয়াদ শেষ হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ দ্রুত নির্বাচন চাইলেও অন্যদিকে বিধিমালা সংশোধন নিয়ে মতভেদ অব্যাহত রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে দেশের ৪০০-এর বেশি চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন সংগঠন এবং জেলা পর্যায়ের বাণিজ্য সংগঠনগুলোর নির্বাচনও আটকে গেছে বলে জানা গেছে।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, নির্বাচিত নেতৃত্ব না থাকায় সরকারের সঙ্গে নীতি সংলাপ ও বাজেট আলোচনায় কার্যকর ভূমিকা রাখা যাচ্ছে না, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংশোধিত বিধিমালা অংশীজনদের মতামতের জন্য প্রকাশ করে চূড়ান্ত করা হলে দ্রুতই নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সব আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে শিগগিরই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি প্রতিনিধিত্বশীল নেতৃত্ব ফিরে পাবে এই শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন, যা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যকে গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

২০ মাস ধরে নেতৃত্বশূন্য এফবিসিসিআই, ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ

প্রকাশিত: ১১:৪৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই এখন দীর্ঘ ২০ মাস ধরে নির্বাচিত নেতৃত্ব ছাড়াই চলছে। প্রশাসক দিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম চললেও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর ব্যবসায়ী প্রতিনিধিত্ব না থাকায় ব্যবসায়ী মহলে বাড়ছে উদ্বেগ।

ব্যবসায়ীদের দাবি, মূল্যস্ফীতি, উচ্চ সুদের হার, জ্বালানি সংকট এবং আমদানি–রপ্তানি জটিলতার এই সংকটময় সময়ে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় ও দর-কষাকষির জন্য কার্যকর একটি ফোরাম না থাকায় ক্ষুদ্র ও বড় উভয় উদ্যোক্তাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংগঠনটির তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম পদত্যাগ করেন। এরপর ১১ সেপ্টেম্বর পর্ষদ বাতিল করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রশাসক নিয়োগ দেয়। তারপর থেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়া বারবার থমকে আছে।

নতুন বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা সংশোধনকে কেন্দ্র করে মূলত এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সংশোধিত নিয়মে পরিচালনা পর্ষদের কাঠামো পরিবর্তন এবং টানা দুই মেয়াদের বেশি থাকার বিধিনিষেধ যুক্ত হওয়ায় অনেক প্রভাবশালী নেতা নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে পড়েন। এ নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হলে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।

পরবর্তীতে প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান দায়িত্ব পালন করলেও মেয়াদ শেষ হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ দ্রুত নির্বাচন চাইলেও অন্যদিকে বিধিমালা সংশোধন নিয়ে মতভেদ অব্যাহত রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে দেশের ৪০০-এর বেশি চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন সংগঠন এবং জেলা পর্যায়ের বাণিজ্য সংগঠনগুলোর নির্বাচনও আটকে গেছে বলে জানা গেছে।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, নির্বাচিত নেতৃত্ব না থাকায় সরকারের সঙ্গে নীতি সংলাপ ও বাজেট আলোচনায় কার্যকর ভূমিকা রাখা যাচ্ছে না, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংশোধিত বিধিমালা অংশীজনদের মতামতের জন্য প্রকাশ করে চূড়ান্ত করা হলে দ্রুতই নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সব আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে শিগগিরই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি প্রতিনিধিত্বশীল নেতৃত্ব ফিরে পাবে এই শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন, যা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যকে গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে।

kalprakash.com/SS