জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি সময়। এই দিনগুলোকে ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বিশেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একজন মুমিনের জন্য এটি দুনিয়াবি ব্যস্ততা থেকে বের হয়ে আখিরাতমুখী হওয়ার এক অনন্য মৌসুম।
কোরআন ও হাদিসে এই সময়ের বিশেষ মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা সম্মানিত চার মাসের কথা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে জিলহজ অন্যতম। আবার কোরআনে ‘দশ রাতের’ শপথের কথাও এসেছে, যা অনেক মুফাসসিরের মতে জিলহজের প্রথম দশককে নির্দেশ করে।
নিম্নে এই ফজিলতপূর্ণ দশকের গুরুত্বপূর্ণ ১০টি আমল তুলে ধরা হলো—
১. বেশি বেশি জিকির ও তাসবিহ: এই দিনগুলোতে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ও আলহামদুলিল্লাহ বেশি বেশি পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
২. নখ ও চুল না কাটা: যারা কোরবানি করবেন, জিলহজ শুরু হওয়ার পর থেকে কোরবানির আগ পর্যন্ত নখ ও চুল না কাটার নির্দেশনা হাদিসে এসেছে।
৩. নফল রোজা রাখা: জিলহজের প্রথম নয় দিন রোজা রাখা অত্যন্ত উত্তম আমল হিসেবে গণ্য করা হয়।
৪. আরাফার দিনের রোজা: ৯ জিলহজ রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ, যা আগের ও পরের বছরের গুনাহ মাফের কারণ হতে পারে বলে হাদিসে এসেছে।
৫. জাহান্নাম থেকে মুক্তি প্রার্থনা: আরাফার দিনে আল্লাহ বান্দাদের ক্ষমা করেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয় বলে বর্ণিত হয়েছে।
৬. বেশি বেশি দোয়া করা: বিশেষ করে আরাফার দিনে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা বেশি থাকে, তাই এ দিনকে দোয়ার মাধ্যমে কাজে লাগানো উচিত।
৭. হজ ও ওমরাহ পালন: সক্ষমদের জন্য এই সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল হলো হজ ও ওমরাহ আদায় করা।
৮. তাকবিরে তাশরিক পাঠ: জিলহজের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রতিটি ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা গুরুত্বপূর্ণ আমল।
৯. কোরবানি করা: সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য ১০ জিলহজ কোরবানি আদায় করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
১০. ঈদের নামাজ আদায়: ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করা মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং আনন্দ-উৎসবের অংশ।
জিলহজের এই প্রথম দশক একজন মুমিনের জন্য আত্মশুদ্ধি ও নেক আমল বৃদ্ধির বিশেষ সুযোগ। দুনিয়াবি ব্যস্ততার মাঝে এই সময়কে অবহেলা না করে বেশি বেশি ইবাদত ও নেক কাজে ব্যস্ত থাকা উচিত। কারণ এই ছোট সময়ের একনিষ্ঠ আমলই আখিরাতের সফলতার কারণ হতে পারে।
অনলাইন ডেস্ক 

























