বাংলাদেশ ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন Logo এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতসহ দুই দাবিতে রাবিতে বিক্ষোভ Logo ৬ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার Logo দরজার সামনে মিলল নবজাতক ছেলে শিশু, স্বজনদের খোঁজে পুলিশ Logo ‘ফার্মের মুরগী’ বিতর্কে আত্মপ্রকাশ করল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ Logo মঠবাড়িয়ার আবাসিক হোটেলে অভিযান, মাদকদ্রব্যসহ আটক ২ Logo যাত্রীসংকটে ১৬ জুলাই থেকে যশোর-ঢাকা রুটে ফ্লাইট বন্ধ করছে ইউএস-বাংলা Logo সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণ Logo সাঁথিয়ায় সাংবাদিক আব্দুদ দাইন সরকারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ Logo রুহিয়ায় চুরি হওয়া ষাঁড় গরু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১
লামায় থামছেই না অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম, প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় জনমনে ক্ষোভ

লামায় থামছেই না অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম, প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় জনমনে ক্ষোভ

বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ৬ মাইল নাজিরাম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনেই প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাহাড় কেটে ও বন উজাড় করে অবৈধ ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে আজিজনগরের সাবেক আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আজম খানের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইটভাটাটিতে পরিবেশ বিধিমালা লঙ্ঘন করে টিনের চিমনি ব্যবহার, বনজ কাঠ জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো এবং শিশুশ্রমে শিশুদের নিয়োজিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই প্রকাশ্যে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ইটভাটা কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইটভাটার জ্বালানির চাহিদা পূরণে আশপাশের সীমান্তবর্তী বনাঞ্চল থেকে নির্বিচারে কাঠ ও লাকড়ি সংগ্রহ করা হচ্ছে। কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানোর কারণে এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইটভাটার আশপাশের বড় বড় পাহাড় কেটে মাটি সরাসরি ভাটায় নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের সামনেই এসব কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি তাদের।

ইটভাটার বৈধতা ও বন উজাড়ের বিষয়ে জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এ সময় ইটভাটা মালিকের ছেলে ফরহাদ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন,

“প্রশাসনিক বিষয়গুলো আমরা ম্যানেজ করেই কাজ করছি। সাংবাদিকরা পারলে আমাদের বিরুদ্ধে যা পারেন করুন।”

এ ধরনের বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের পরও প্রশাসন কেন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না—এ প্রশ্নও তুলেছেন সচেতন মহল।

এছাড়া ইটভাটায় শিশুশ্রমের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে, যা প্রচলিত শ্রম আইন ও শিশুশ্রম নিরোধ আইনের পরিপন্থী।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক, সুশীল সমাজ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো অবিলম্বে পাহাড় কাটা বন্ধ, বনজ কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ এবং অভিযুক্ত ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে বান্দরবান সদরের ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম গত দুই বছর ধরে বন্ধ থাকলেও লামা ও থানচিসহ কয়েকটি উপজেলার ইটভাটাগুলো রহস্যজনকভাবে এখনো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন

লামায় থামছেই না অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম, প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় জনমনে ক্ষোভ

লামায় থামছেই না অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম, প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় জনমনে ক্ষোভ

প্রকাশিত: ০৬:৪১:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ৬ মাইল নাজিরাম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনেই প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাহাড় কেটে ও বন উজাড় করে অবৈধ ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে আজিজনগরের সাবেক আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আজম খানের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইটভাটাটিতে পরিবেশ বিধিমালা লঙ্ঘন করে টিনের চিমনি ব্যবহার, বনজ কাঠ জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো এবং শিশুশ্রমে শিশুদের নিয়োজিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই প্রকাশ্যে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ইটভাটা কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইটভাটার জ্বালানির চাহিদা পূরণে আশপাশের সীমান্তবর্তী বনাঞ্চল থেকে নির্বিচারে কাঠ ও লাকড়ি সংগ্রহ করা হচ্ছে। কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানোর কারণে এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইটভাটার আশপাশের বড় বড় পাহাড় কেটে মাটি সরাসরি ভাটায় নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের সামনেই এসব কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি তাদের।

ইটভাটার বৈধতা ও বন উজাড়ের বিষয়ে জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এ সময় ইটভাটা মালিকের ছেলে ফরহাদ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন,

“প্রশাসনিক বিষয়গুলো আমরা ম্যানেজ করেই কাজ করছি। সাংবাদিকরা পারলে আমাদের বিরুদ্ধে যা পারেন করুন।”

এ ধরনের বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের পরও প্রশাসন কেন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না—এ প্রশ্নও তুলেছেন সচেতন মহল।

এছাড়া ইটভাটায় শিশুশ্রমের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে, যা প্রচলিত শ্রম আইন ও শিশুশ্রম নিরোধ আইনের পরিপন্থী।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক, সুশীল সমাজ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো অবিলম্বে পাহাড় কাটা বন্ধ, বনজ কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ এবং অভিযুক্ত ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে বান্দরবান সদরের ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম গত দুই বছর ধরে বন্ধ থাকলেও লামা ও থানচিসহ কয়েকটি উপজেলার ইটভাটাগুলো রহস্যজনকভাবে এখনো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।