বাংলাদেশ ০৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo যুবলীগ নেতাকে আটকের পর থানায় গ্রামবাসীর বিক্ষোভ, ছেড়ে দিতে বাধ্য হলো পুলিশ Logo গ্যাসবাহী ট্রাক-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪ Logo ঠাকুরগাঁওয়ে ফেসবুক পেজে মিথ্যা সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ Logo কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আর্জেন্টিনা, ম্যাচ শেষে যা বললেন মেসি Logo জুলাই শহিদদের স্মরণে কুবি ছাত্রশক্তির মোমবাতি প্রজ্বলন ও দ্রোহের গান Logo বেরোবিতে অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবস্থাপনায় দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা Logo সংগ্রামের গল্পের মর্মান্তিক সমাপ্তি: অকালেই থেমে গেল পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর জীবন Logo ছাত্রীদের গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে নেতার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার তথ্য Logo কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছায়া জাতিসংঘের নতুন কমিটি Logo ডাইনিংয়ে শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহ, বাড়ছে বাইরের খাবারের ওপর নির্ভরতা

ফুটপাতের ব্যবসা নিয়ে নতুন নীতিমালায় নগরে বাড়ছে চাপ ও বিতর্ক

মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বেড়িবাঁধ তিন রাস্তা মোড় পর্যন্ত প্রধান সড়কের ওপর হকাররা দোকান বসানোর কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে (ছবি : সংগৃহীত ছবি)

রাজধানীতে হকার ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। ফুটপাত ও সড়ক দখল করে হকারদের ব্যবসা নগর জীবনে যেমন ভোগান্তি তৈরি করছে, তেমনি নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বেড়িবাঁধ তিন রাস্তা মোড় পর্যন্ত প্রধান সড়কে হকারদের দোকান বসার কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি দেখা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর, ভ্যাট ও উচ্চ ভাড়া দিয়ে পরিচালিত বৈধ দোকানদারদের তুলনায় কম খরচে ফুটপাতে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হলে তা অসম প্রতিযোগিতা ও নতুন সামাজিক বৈষম্য তৈরি করতে পারে।

তারা বলছেন, শুধু নিবন্ধন, স্মার্ট কার্ড বা নির্ধারিত ফি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না, বরং নগর ব্যবস্থাপনা ও কর কাঠামোকে সমন্বিতভাবে না ভাবলে এই নীতিমালা কার্যত ফুটপাত ব্যবসাকে আংশিক বৈধতা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ অভিযোগ করছেন, ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে দৈনিক ও মাসিক ভিত্তিতে বিপুল অঙ্কের চাঁদা আদায় হয়, যা প্রভাবশালী মহল ও অসাধু চক্রের পকেটে যাচ্ছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং একটি অনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক চক্র তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে বৈধ দোকান মালিকরা দোকানভাড়া, ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট-ট্যাক্স ও অন্যান্য খরচ বহন করেও ব্যবসা চালাতে গিয়ে সংকটে পড়ছেন। ফুটপাতের কম দামের বিক্রির কারণে তারা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করছেন অনেকে।

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, হকারদের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে শুধু উচ্ছেদ নয়, বরং স্বচ্ছ নিবন্ধন, নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ এবং কর কাঠামোর আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখাও নিশ্চিত করতে হবে।

তাদের আরেকটি প্রশ্ন হলো—শুধু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য আলাদা নীতিমালা করলে দেশের অন্যান্য শহরে চলমান একই ধরনের সমস্যার সমাধান হবে না, বরং বৈষম্য তৈরি হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী হকারদের স্মার্ট কার্ড, নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবসার সুযোগ, সময়ভিত্তিক বাজার এবং কিউআর কোডভিত্তিক নিবন্ধনের কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবায়ন ঘিরে মাঠপর্যায়ে অনিয়ম ও পুনরায় দখলের শঙ্কাও রয়েছে।

এদিকে কয়েক দফা উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পরও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবারও হকারদের দখল দেখা গেছে। ফলে ফুটপাত শৃঙ্খলা ফেরানো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।

kalprakash.com/SS

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
ফুটপাতের ব্যবসা নিয়ে নতুন নীতিমালায় নগরে বাড়ছে চাপ ও বিতর্ক
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

যুবলীগ নেতাকে আটকের পর থানায় গ্রামবাসীর বিক্ষোভ, ছেড়ে দিতে বাধ্য হলো পুলিশ

ফুটপাতের ব্যবসা নিয়ে নতুন নীতিমালায় নগরে বাড়ছে চাপ ও বিতর্ক

প্রকাশিত: ০২:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

রাজধানীতে হকার ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। ফুটপাত ও সড়ক দখল করে হকারদের ব্যবসা নগর জীবনে যেমন ভোগান্তি তৈরি করছে, তেমনি নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বেড়িবাঁধ তিন রাস্তা মোড় পর্যন্ত প্রধান সড়কে হকারদের দোকান বসার কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি দেখা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর, ভ্যাট ও উচ্চ ভাড়া দিয়ে পরিচালিত বৈধ দোকানদারদের তুলনায় কম খরচে ফুটপাতে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হলে তা অসম প্রতিযোগিতা ও নতুন সামাজিক বৈষম্য তৈরি করতে পারে।

তারা বলছেন, শুধু নিবন্ধন, স্মার্ট কার্ড বা নির্ধারিত ফি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না, বরং নগর ব্যবস্থাপনা ও কর কাঠামোকে সমন্বিতভাবে না ভাবলে এই নীতিমালা কার্যত ফুটপাত ব্যবসাকে আংশিক বৈধতা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ অভিযোগ করছেন, ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে দৈনিক ও মাসিক ভিত্তিতে বিপুল অঙ্কের চাঁদা আদায় হয়, যা প্রভাবশালী মহল ও অসাধু চক্রের পকেটে যাচ্ছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং একটি অনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক চক্র তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে বৈধ দোকান মালিকরা দোকানভাড়া, ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট-ট্যাক্স ও অন্যান্য খরচ বহন করেও ব্যবসা চালাতে গিয়ে সংকটে পড়ছেন। ফুটপাতের কম দামের বিক্রির কারণে তারা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করছেন অনেকে।

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, হকারদের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে শুধু উচ্ছেদ নয়, বরং স্বচ্ছ নিবন্ধন, নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ এবং কর কাঠামোর আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখাও নিশ্চিত করতে হবে।

তাদের আরেকটি প্রশ্ন হলো—শুধু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য আলাদা নীতিমালা করলে দেশের অন্যান্য শহরে চলমান একই ধরনের সমস্যার সমাধান হবে না, বরং বৈষম্য তৈরি হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী হকারদের স্মার্ট কার্ড, নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবসার সুযোগ, সময়ভিত্তিক বাজার এবং কিউআর কোডভিত্তিক নিবন্ধনের কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবায়ন ঘিরে মাঠপর্যায়ে অনিয়ম ও পুনরায় দখলের শঙ্কাও রয়েছে।

এদিকে কয়েক দফা উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পরও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবারও হকারদের দখল দেখা গেছে। ফলে ফুটপাত শৃঙ্খলা ফেরানো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।

kalprakash.com/SS

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
ফুটপাতের ব্যবসা নিয়ে নতুন নীতিমালায় নগরে বাড়ছে চাপ ও বিতর্ক