চলতি মৌসুমে নাটোরে গাছ থেকে আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের সময়সূচি ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৫ মে থেকে জেলার চাষি ও ব্যবসায়ীরা গাছ থেকে আম নামাতে পারবেন। ওইদিন থেকে বাজারে আসবে গুটি জাতের আম। এরপর জাতভেদে পর্যায়ক্রমে একে একে বাজারে আসবে বিভিন্ন প্রজাতির আম।
সোমবার (১১ মে) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘ফল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণন সংক্রান্ত প্রস্তুতি সভায়’ এ সময়সূচি ঘোষণা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন। এসময় আমচাষি, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, ১৫ মে থেকে গুটি জাতের আম, ২৫ মে থেকে গোপালভোগ, ৩০ মে থেকে রাণী পছন্দ ও ক্ষিরসাপাত, ৫ জুন থেকে লক্ষণভোগ, ১৫ জুন থেকে ল্যাংড়া ও আম্রপালি, ২৫ জুন থেকে মোহনভোগ ও হাড়িভাঙ্গা, ৩০ জুন থেকে ফজলী, ৫ জুলাই থেকে মল্লিকা, ১৫ জুলাই থেকে বারি-৪, ২০ জুলাই থেকে আশ্বিনা এবং ১০ আগস্ট থেকে গৌরমতি আম সংগ্রহ করা যাবে।
এছাড়া লিচু সংগ্রহের সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৭ মে থেকে মোজাফফর জাতের লিচু এবং ২৫ মে থেকে বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচু আহরণ করা যাবে।
সভায় জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, গাছ থেকে ফল সংগ্রহ, বিপণন ও পরিবহনের ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করে ক্রেতা পর্যায়ে নিরাপদ ফল নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। উপজেলা প্রশাসন আম ও লিচু উৎপাদক, ব্যবসায়ী এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাগানে কেমিকেলমুক্ত ফল উৎপাদনে প্রশাসনিক নজরদারি অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ক্ষতিকর রাসায়নিক পরিহার এবং ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, রাসায়নিক পদার্থের অপব্যবহার রোধ, পরিপক্ব ফল সংগ্রহ, দীর্ঘসময় সংরক্ষণ ও কষজনিত পচন ঠেকাতে বোটাসহ আম পাড়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ ফল উৎপাদনে ব্যাগিং পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নাটোর জেলার ৪ হাজার ৮৮৭ হেক্টর লিচুবাগান থেকে ৭ হাজার ৫৪০ টন লিচু এবং ৫ হাজার ৬৯৩ হেক্টর আমবাগান থেকে ৬৮ হাজার ৩১৬ টন আম উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।
মিজানুর রহমান, নাটোর প্রতিনিধি 




















