লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সোনাপুর চৌরাস্তা থেকে পানিয়ালা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিতোষী সড়কের বেহাল দশা ও সংস্কারকাজে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। সড়কটির সংস্কারকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার এবং তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ক্ষুব্ধ পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে এমপি সেলিম ব্যঙ্গাত্মক ও কঠোর ভাষায় ঠিকাদারের অনুপস্থিতি এবং প্রকৌশলীদের দায়িত্বহীনতার সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংস্কারের নামে দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কটি এখন স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের পথের পাশাপাশি জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
ঠিকাদার সম্পর্কে ব্যঙ্গ করে তিনি লেখেন, ঠিকাদার যেন এমন এক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, যাঁকে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর; এমনকি তাঁকে খুঁজতে দোনলা বন্দুকও কাজে আসছে না। পাশাপাশি ঠিকাদারের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতার আশীর্বাদপুষ্ট সম্পর্ক রয়েছে বলেও ইঙ্গিত করেন তিনি।
সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীদের সমালোচনা করে সংসদ সদস্য বলেন, তাঁদের কাছে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কিংবা সড়কের বাস্তব পরিস্থিতির কোনো গুরুত্ব আছে বলে মনে হয় না। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এমন নির্বিকার আচরণে তিনি হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, বারবার যোগাযোগ ও তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি।
তবে দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগের অবসানের বিষয়ে আশার কথা জানিয়ে এমপি সেলিম বলেন, সড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী তাঁকে জানিয়েছেন, আগামীকাল থেকেই চিতোষী সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন করা হবে। এতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের সুযোগ ফিরে আসবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সড়কটির সমস্যার দ্রুত সমাধানে তাঁর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
পোস্টের শেষাংশে সড়কটির কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হওয়া সাধারণ মানুষের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির সংস্কারকাজ কবে নাগাদ বাস্তবে শুরু হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, আশ্বাস নয়—দ্রুত কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমে স্বাভাবিক যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে।