লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান বণ্টন নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। ২৩ জনের অনুদানপ্রাপ্ত তালিকায় সংসদ সদস্যের নিজ ইউনিয়ন করপাড়ার ১৫ জনের নাম থাকায় বণ্টনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ ও চাপা ক্ষোভ।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিস্তৃত জনগোষ্ঠীকে বিবেচনায় না নিয়ে অনুদান বণ্টনে একটি নির্দিষ্ট ইউনিয়নকে অতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ফলে অন্যান্য ইউনিয়নের অসচ্ছল ও প্রকৃত সহায়তাপ্রত্যাশীরা উপেক্ষিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অর্থ শাখা-২ থেকে সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের আওতায় অনুদান প্রদানের জন্য লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন সেলিমের অনুকূলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ধাপের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সংসদ সদস্যের কর্তৃত্বে বণ্টনের জন্য নির্ধারিত এ অনুদানের তালিকায় রয়েছেন মোট ২৩ জন।
তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৩ জনের মধ্যে ১৫ জনই সংসদ সদস্যের নিজ ইউনিয়ন করপাড়ার বাসিন্দা। এ ছাড়া রামগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর কাজিরখিল ওয়ার্ডের চারজন, কাঞ্চনপুর, নোয়াগাঁও ও চণ্ডীপুর ইউনিয়নের একজন করে এবং পৌরসভার জগৎপুর গ্রামের একজন রয়েছেন।
অর্থাৎ, মোট অনুদানপ্রাপ্তদের প্রায় ৬৫ শতাংশই করপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। বিপরীতে উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নের কোনো বাসিন্দার নাম তালিকায় স্থান পায়নি। এ পরিস্থিতিতে অনুদান বণ্টনে ভৌগোলিক ভারসাম্য ও প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচনের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির পাঁচ থেকে সাতজন নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংসদ সদস্যের প্রথম পর্যায়ের অনুদান বণ্টনে তাঁর নিজ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের অস্বাভাবিক প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অথচ রামগঞ্জের অন্যান্য ইউনিয়নেও অসংখ্য অসচ্ছল, অসহায় ও আর্থিকভাবে সহযোগিতার যোগ্য মানুষ রয়েছেন। তাঁদের মতে, জনপ্রতিনিধির ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান কোনো নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা নয়; বরং পুরো নির্বাচনী এলাকার যোগ্য ও অসহায় মানুষের মধ্যে ন্যায্যতার ভিত্তিতে বণ্টন হওয়া উচিত।
তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্যের আশপাশে থাকা কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তাঁকে ভুল তথ্য দিয়ে প্রভাবিত করতে পারেন। এতে প্রকৃত অসহায় ও যোগ্য ব্যক্তিরা অনুদান থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভবিষ্যতে অনুদান বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এ অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে বলেও তাঁরা মনে করেন।
এ বিষয়ে রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোজাম্মেল হক মজু বলেন, এমপির অনুদান বণ্টনের তালিকা প্রণয়ন ও অর্থ বণ্টনের বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন সেলিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় একটি ইউনিয়নের এত বেশি মানুষের অন্তর্ভুক্তি এবং অধিকাংশ ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব না থাকার বিষয়টি ইতোমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান বণ্টনে প্রকৃত অসহায়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, নাকি স্থানীয় প্রভাব ও যোগাযোগই প্রাধান্য পেয়েছে? এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা ও জবাবদিহি প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।