ঢাকা, ৩০ অক্টোবর ২০২৬: স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণবিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ।
সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা খুব স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, বিএনপি সরকারের কাছে, তারেক রহমানের কাছে দেশ পরিচালনার কোনো পরিকল্পনাই নেই। তাদের পরিকল্পনা হলো কীভাবে দুর্নীতি করবে, কীভাবে লুটপাট করবে, কীভাবে চাঁদাবাজি করবে, কীভাবে সন্ত্রাস কায়েম করবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, হাজারো মানুষের রক্তদানের পর আমরা এক স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। এখন নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখছি। কিন্তু আপনাদের সামনে আমাদের ওয়াদা, আপনাদের সামনে আমাদের প্রতিশ্রুতি, পতিত স্বৈরাচার এবং এই নব্য স্বৈরাচার, এই দুই স্বৈরাচারকেই আমরা পরাজিত করব, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার নানা ধরনের চক্রান্ত চলমান রয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তে হত্যা করা হচ্ছে, পাহাড়ে অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে। সীমান্তের ওপারে আসামে মুসলমানদের নিপীড়ন করা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের নিপীড়ন করা হচ্ছে, দিল্লিতে মসজিদ ভেঙে দেওয়া হচ্ছে এবং বাংলাদেশের মুসলমানদের নিয়েও চক্রান্ত করা হচ্ছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশের হিন্দুদের নিয়েও চক্রান্ত করছে। ভারতের এই চক্রান্ত থেকে বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারবে না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা দেখছি, জাপানে গিয়ে আবারও বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে করিডর তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। অবৈধ করিডর ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। জনাব তারেক রহমানকে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এ ধরনের কোনো অবৈধ করিডর বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না। আগামী ডিসেম্বরে গঙ্গা চুক্তি যদি ন্যায্যভাবে নতুন করে তৈরি করা না হয়, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ আবারও রাস্তায় নামবে। এবার গঙ্গা চুক্তিতে এক বিন্দু পরিমাণ ন্যায্য হিস্যা আমরা ছাড় দেব না, ইনশাআল্লাহ।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে যে নৈরাজ্য চলছে, যে খুন-গুম চলছে, এসব কিছুর ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। জ্বালানিমন্ত্রীকেও পদত্যাগ করতে হবে। নইলে আমাদের এই মিছিল সারা বাংলাদেশের সর্বত্র হবে। সেই মিছিল নিয়ে আমরা জনাব তারেক রহমানকে ঘেরাও করে আমাদের দাবি আদায় করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।
kalprakash.com/IM