বার্ধক্য প্রকৃতির এক স্বাভাবিক নিয়ম। এটি জীবনের শেষ অধ্যায়ের ইঙ্গিত বহন করে। জীবনের এই অমোঘ সত্য মানুষের শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
বার্ধক্যে মানুষের শরীরে নানা পরিবর্তন ও দুর্বলতা দেখা দেয়। শরীরের কোষের ক্ষয় হতে থাকে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দুর্বল হয়ে পড়ে। দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়া, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া এবং হাড়ের ক্ষয়—এসব পরিবর্তন বার্ধক্যের স্বাভাবিক লক্ষণ। এ সময় মাথার সাদা চুলকে অনেক ক্ষেত্রে জীবনের শরৎকাল কিংবা বিদায়ের ঘণ্টার রূপক হিসেবেও দেখা হয়।
মানুষের জীবনের নির্ধারিত সময়সীমা আল্লাহ তাআলার কাছে রয়েছে। সেই সময় কখন শেষ হবে, তা একমাত্র তিনিই জানেন। দীর্ঘ জীবন লাভ করে সেই জীবনকে নেক আমলে পরিপূর্ণ করা মানুষের সৌভাগ্যের অন্যতম নিদর্শন। অন্যদিকে, দীর্ঘ আয়ু পেয়েও প্রবৃত্তির চাহিদা ও ভোগের আকাঙ্ক্ষা বাড়তে থাকা এবং পাপাচারে নিমজ্জিত থাকা দুর্ভাগ্যের লক্ষণ।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ সেই ব্যক্তির ব্যাপারে তার অজুহাতের অবকাশ রাখেননি, যাকে তিনি এত দীর্ঘ জীবন দিয়েছেন যে সে ৬০ বছরে উপনীত হয়েছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪১৯)
কারও বয়স ৬০ বছরে পৌঁছালে তাঁর উচিত আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তুতি নেওয়া। এটি তাওবা করা, আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং মৃত্যুর প্রস্তুতি গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ পর্যায়ে পাপাচার পরিহার করে বেশি বেশি ইস্তিগফার করা, নেক আমল করা এবং আখিরাতের প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত।
বুদ্ধিমান ব্যক্তি কে?
বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যিনি জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কাজে ব্যয় করেন। দুনিয়ায় নিজের জন্য কল্যাণের বীজ বপন করেন এবং দীর্ঘ জীবনের আশা যেন তাঁকে আমল থেকে গাফেল না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকেন। কারণ, হঠাৎ মৃত্যু এসে তাঁকে অপ্রস্তুত অবস্থায় গ্রাস করতে পারে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এত দীর্ঘ জীবন দিইনি, যাতে যে উপদেশ গ্রহণ করতে চায়, সে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে? আর তোমাদের কাছে সতর্ককারীও এসেছিল।’ (সুরা ফাতির, আয়াত: ৩৭)
বয়স যত বাড়বে, আমলও তত বাড়াতে হবে
প্রত্যেক দায়িত্বশীল মুসলিম—নারী ও পুরুষ উভয়েরই এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উপলব্ধি করা উচিত। আল্লাহ যখন কাউকে অতিরিক্ত জীবন দান করেন, তখন তাঁর উচিত সেই সময় আরও বেশি নেক আমলে ব্যয় করা। মৃত্যু কখন এসে উপস্থিত হবে, তা কারও জানা নেই। তাই অসতর্কতা ও অবহেলার মধ্যে জীবন কাটানো উচিত নয়।
বার্ধক্য হলো মৃত্যুর আগমনী বার্তা
যাঁরা বার্ধক্যে পৌঁছেছেন, তাঁদের উপলব্ধি করা উচিত, বার্ধক্য দুনিয়া থেকে বিদায়ের আগমনী বার্তা। এটি জীবনের অবসান ঘনিয়ে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। তাই বয়স ও অবস্থার সঙ্গে অসংগত কাজে লিপ্ত হওয়া উচিত নয়। দীর্ঘসূত্রতা ও মিথ্যা আশা যেন কাউকে প্রতারিত না করে।
‘পরে তাওবা করব’, ‘পরে নামাজ-ইবাদত বাড়াব’—এভাবে সময়ক্ষেপণ করতে করতে যেন পুরো জীবন শেষ হয়ে না যায়। বরং জীবনের অবশিষ্ট সময়ের বেশির ভাগ আল্লাহর আনুগত্যে ব্যয় করা উচিত। কারণ, আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর সময় মানুষের আর কোনো অজুহাত কাজে আসবে না।
kalprakash.com/IM