কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং এলাকায় নির্মিত ঐতিহ্য কমিউনিটি সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অযত্নে পড়ে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এ স্থাপনা যথাযথভাবে ব্যবহার না হওয়ায় একদিকে অবকাঠামো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সরকারি বিনিয়োগের সুফল থেকেও স্থানীয় জনগণ বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাবরাং ইউনিয়নে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি আধুনিক কমিউনিটি সেন্টারের প্রয়োজন রয়েছে। সেই প্রয়োজন বিবেচনায় স্থাপনাটি নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়ায় সেটি অনেকটা অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন সংস্কার ও পরিচর্যার অভাবে ভবনের বিভিন্ন অংশে অব্যবস্থাপনার ছাপ রয়েছে। নিয়মিত ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্থাপনাটির সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংস্কার ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মিত কোনো স্থাপনা শুধু নির্মাণ করেই দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ নেই। নির্মাণের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ-পানি ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তা না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তদন্ত ও হিসাব প্রকাশের দাবি
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ঐতিহ্য কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণে মোট কত টাকা ব্যয় হয়েছে, কোন প্রকল্পের আওতায় এটি নির্মাণ করা হয়েছে, জমির পরিমাণ কত, বর্তমানে কোন সরকারি প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষ এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অতীতে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কি না—এসব তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
তাঁরা আরও বলেন, সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়ে থাকলে সেই অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে এবং কাজের বর্তমান অবস্থা কী, তা খতিয়ে দেখা দরকার। আর কোনো বরাদ্দ না থাকলে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
সরকারি সম্পদ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, কমিউনিটি সেন্টারটি সংস্কার করে নিয়মিত ব্যবহারের ব্যবস্থা করা গেলে স্থানীয় জনগণের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সভা, প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্যও স্থাপনাটি ব্যবহার করা সম্ভব।
তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভবনটির বর্তমান অবস্থা নিরূপণ করুক এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নিক। একই সঙ্গে সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনাটি কেন দীর্ঘদিন অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হোক।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি অর্থে নির্মিত ঐতিহ্য কমিউনিটি সেন্টারটি আর অবহেলায় পড়ে না থেকে দ্রুত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে জনসাধারণের ব্যবহার উপযোগী করা হবে।
kalprakash.com/IM