২০৩০ সালের মধ্যে দ্রুত বাড়বে যে সাত শিল্প, চাকরির সুযোগ কোথায়
প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রভাবে বদলে যাচ্ছে প্রচলিত চাকরির বাজার। কিছু শিল্পে কাজের পরিধি এত দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে যে দক্ষ কর্মীর চাহিদা জোগানের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার প্রভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্রুত বর্ধনশীল হতে যাচ্ছে প্রধান সাতটি শিল্প। কর্মক্ষেত্রে ক্যারিয়ার পরিবর্তনের কথা ভাবছেন কিংবা ভবিষ্যৎ চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করতে চান, তাঁদের জন্য এই খাতগুলো সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, ফিনটেক, সবুজ জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, সাইবার নিরাপত্তা, লজিস্টিকস ও ডেটা সায়েন্স ২০৩০ সালের মধ্যে দ্রুত বর্ধনশীল শিল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার ও স্বয়ংক্রিয়তার কারণে এসব খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে।
ডেটা সম্পর্কে ধারণা প্রায় সব খাতেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফিনটেক, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থাপনাসহ দ্রুত বর্ধনশীল অনেক খাতেই এটি একটি মৌলিক দক্ষতা।
হাতে-কলমে শেখার মাধ্যমে দ্রুত এসব দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। স্বল্পমেয়াদি ডিপ্লোমা ও নির্দিষ্ট দক্ষতাভিত্তিক প্রোগ্রামের মাধ্যমে বছরের পর বছর প্রচলিত পড়াশোনা না করেও এসব শিল্পে প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট দক্ষতা শেখা যায়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও এআই প্ল্যাটফর্ম
প্ল্যাটফর্ম ও অ্যাপ্লিকেশনসহ এআই সফটওয়্যার বাজার ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৬৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ জেনারেটিভ এআই। এটি দৈনন্দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অংশ হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এমন পেশাজীবীদের চাহিদা বাড়ছে, যাঁরা বিদ্যমান কাজের প্রক্রিয়ায় এআই যুক্ত করতে পারেন, মডেলের কার্যক্রম ও উৎপাদন পর্যবেক্ষণ করতে পারেন এবং ব্যবসায়িক প্রেক্ষাপটে এআইয়ের ফলাফল ব্যাখ্যা করতে পারেন।
প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন কর্মী প্রয়োজন, যাঁরা এআই ব্যবস্থা ও ব্যবসায়িক ফলাফলের মধ্যে সংযোগ তৈরি করতে পারেন। এসব পেশাজীবীর কাছ থেকে সাধারণত যেসব দক্ষতা আশা করা হয়:
- মডেলের ফলাফল মূল্যায়ন ও ব্যাখ্যা করার দক্ষতা
- মডেল পরিচালনা, ডেটার মান এবং প্রম্পট বা পণ্য ডিজাইনের মৌলিক ধারণা
- মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ে কাজ করার দক্ষতা
এ ধরনের কাজে এআই সম্পর্কে মৌলিক ধারণা ক্রমেই অপরিহার্য হয়ে উঠছে। তবে শুরু করার জন্য মেশিন লার্নিংয়ে পিএইচডি করার প্রয়োজন নেই। এআই ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে, এর সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা কী এবং কীভাবে কৌশলগতভাবে এটি কাজে লাগানো যায়, তা জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক পেশাজীবী এ বিষয়ে ভিত্তি তৈরির জন্য কাঠামোবদ্ধ প্রোগ্রামের মাধ্যমে শেখা শুরু করছেন। যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর ডিপ্লোমা তাঁদের মডেল মূল্যায়ন, পরিচালনা এবং ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। পাশাপাশি বর্তমান কর্মক্ষেত্রে হাতে-কলমে প্রকল্পের মাধ্যমেও এসব দক্ষতা তৈরি করা যায়।
যাঁদের এআইয়ের মৌলিক বিষয়ে ভালো ধারণা রয়েছে এবং কৌশলগত প্রয়োগে বিশেষায়িত হতে চান, তাঁরা ইউনিএথেনার ‘এমবিএ ইন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইন বিজনেস’-এর মতো প্রোগ্রাম করতে পারেন, যা জিএমইউ অনুমোদিত। এসব প্রোগ্রাম পেশাজীবীদের বিভিন্ন শিল্প ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এআই প্রয়োগে সহায়তা করে।
ফিনটেক ও ডিজিটাল পেমেন্ট
ফিনটেক খাতের প্রবৃদ্ধি ক্রমেই এমবেডেড ফাইন্যান্সের মাধ্যমে বাড়ছে। এর মাধ্যমে পেমেন্ট, ঋণ ও আর্থিক সেবা সরাসরি আর্থিক খাতের বাইরের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনের কারণে কর্মসংস্থানের চাহিদাও স্পষ্টভাবে বাড়ছে। পেমেন্ট পরিচালনা, মার্চেন্ট অনবোর্ডিং এবং জালিয়াতি শনাক্তকরণের মতো কাজে চাকরির বিজ্ঞপ্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব কাজের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হলো ডেটা সম্পর্কে ধারণা।
এই খাতে কাজ করতে চাইলে সাধারণত যেসব বিষয় বুঝতে হবে:
- কেওয়াইসি ও পেমেন্টসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলাসহ আর্থিক ব্যবস্থা ও হিসাব সমন্বয়
- পেমেন্ট বা ঋণ দেওয়ার প্রক্রিয়া কীভাবে তৈরি ও পর্যবেক্ষণ করতে হয়
- আর্থিক পণ্য উন্নত করতে ব্যবসায়িক বিশ্লেষণ কীভাবে ব্যবহার করতে হয়
এসব দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিলে ডিজিটাল ব্যবস্থায় কীভাবে পেমেন্ট পরিচালিত হয়, কীভাবে নিয়ম ও কমপ্লায়েন্স প্রয়োগ করা হয় এবং আর্থিক প্রক্রিয়া উন্নত করতে কীভাবে ডেটা বিশ্লেষণ করতে হয়, তা বোঝা সহজ হয়। এসব দক্ষতা আয়ত্ত করতে পারলে ফিনটেক খাতে পরিচালনামূলক, বিশ্লেষণধর্মী বা পণ্যভিত্তিক বিভিন্ন পদে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও জ্বালানি
পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে কারিগরি ও পরিচালনামূলক দুই ধরনের কাজের চাহিদা তৈরি হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তিবিদ, উৎপাদন প্রক্রিয়ার কর্মী এবং মান বা কমপ্লায়েন্স সহকারীরা দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করেন। কাজের ধরন অনুযায়ী তাঁদের সৌর প্যানেল স্থাপন, উৎপাদন লাইন পরিচালনা ও উৎপাদনের গতি পর্যবেক্ষণ অথবা নিয়মিত পরিদর্শন ও কমপ্লায়েন্স যাচাইয়ের মতো কাজ করতে হতে পারে।
কারিগরি পর্যায়ে এ খাতে কাজ করতে হলে সাধারণত যেসব বিষয়ে দক্ষতা থাকা প্রয়োজন:
- বৈদ্যুতিক ডায়াগ্রাম জানা
- মৌলিক বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ করা
- নিয়মিত সেবা ও পরিদর্শনের তথ্য সংরক্ষণ করা
যুক্তরাষ্ট্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিবিদদের বর্তমান আয় প্রায় ৫৯ হাজার ৪০৫ ডলার। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই আয়ও বাড়ছে।
কারিগরি কাজের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা পর্যায়েও দ্রুত নতুন পদ তৈরি হচ্ছে। এসব পদে সরাসরি স্থাপনের কাজের চেয়ে জ্বালানি কৌশল, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ম মেনে চলা এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থা যুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
যাঁরা ইতোমধ্যে কারিগরি পর্যায়ে কাজ করছেন এবং ব্যবস্থাপনা বা কৌশলগত পর্যায়ে যেতে চান, তাঁদের জন্য কাঠামোবদ্ধ শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ইউনিএথেনার ‘এমবিএ ইন এনার্জি ম্যানেজমেন্ট’-এর মতো প্রোগ্রাম এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য পেশাজীবীদের প্রস্তুত করতে তৈরি করা হয়েছে।
এসব প্রোগ্রামে পরিচালনা, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও জ্বালানি খাতের নীতিমালা সম্পর্কে শেখানো হয়। ফলে শুধু ধারণাগত বিষয় শেখার বদলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প কীভাবে পরিকল্পনা, পরিচালনা ও বড় পরিসরে বাস্তবায়ন করা হয়, তা বোঝা যায়।
স্বাস্থ্যসেবা ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য
গত কয়েক বছরে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এর বড় একটি অংশ এসেছে ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে। টেলিহেলথ, মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য রেকর্ড এবং দূর থেকে রোগীর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের মতো প্রযুক্তি এখন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া ও পরিচালনার অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের বড় পরিসরে ব্যবস্থাপনার জন্য ডেটা বিশ্লেষণ ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
যাঁদের ডেটা বিশ্লেষণে ভালো ভিত্তি রয়েছে, তাঁদের জন্য এই পরিবর্তনের ফলে ডিজিটাল স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনার মতো ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এসব কাজে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণাও প্রয়োজন।
এ কারণে অনেক পেশাজীবী প্রথমে স্বাস্থ্যসেবা তথ্য ব্যবস্থার মৌলিক বিষয় শেখেন এবং পরে স্বাস্থ্যসেবায় কৌশলগত পরিকল্পনার দিকে এগিয়ে যান। এতে হাসপাতালের কার্যক্রম, রোগী ব্যবস্থাপনার কাজের ধারা এবং বাস্তব স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কীভাবে সম্পদ বণ্টন করা হয়, তা বোঝা যায়। ফলে শুধু ডেটা নিয়ে কাজ নয়, বরং তা কীভাবে ভালো ফলাফলের জন্য ব্যবহার করা যায়, সেটিও বোঝা সম্ভব হয়।
সাইবার নিরাপত্তা ও ট্রাস্ট সার্ভিস
ডিজিটাল হামলার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সাইবার নিরাপত্তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ। র্যানসমওয়্যার, ফিশিং ও সিস্টেমে অননুমোদিত প্রবেশের মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে, যার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি এসব বিষয় নিয়ে নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মকানুনও বাড়ছে। সামগ্রিকভাবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিয়োগ কমলেও প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রমে বড় ধরনের ব্যাঘাত ও কমপ্লায়েন্স ব্যর্থতা এড়াতে সাইবার নিরাপত্তায় বিনিয়োগ অব্যাহত রাখছে।
এই শিল্পে প্রবৃদ্ধির বড় অংশ পরিচালনামূলক নিরাপত্তার কাজে দেখা যাচ্ছে, গবেষণাভিত্তিক কাজে নয়। হুমকি পর্যবেক্ষণ, প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, সাইবার হামলার পর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্লাউডভিত্তিক ব্যবস্থা নিরাপদ করার মতো কাজে পেশাজীবীদের চাহিদা বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো এআই ও স্বয়ংক্রিয়তা গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে হুমকি শনাক্তকরণ ও ঝুঁকি বিশ্লেষণে ব্যবহৃত বুদ্ধিমান ব্যবস্থার সঙ্গে কাজ করতে পারেন, এমন কর্মীরও প্রয়োজন হচ্ছে।
এই খাতে প্রবেশ করতে বা কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করতে চাইলে নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক সনদের চেয়ে ব্যবহারিক দক্ষতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কীভাবে সাইবার হামলা হয়, নিরাপত্তা সরঞ্জাম কীভাবে ব্যবহার করা হয় এবং বাস্তব পরিবেশে হামলার পর কীভাবে ব্যবস্থা নিতে হয়, তা বোঝা প্রয়োজন।
‘বেসিকস অব সাইবার অ্যাটাকস অ্যান্ড থ্রেটস ইন সাইবারসিকিউরিটি’-এর মতো প্রোগ্রামের মাধ্যমে এই ভিত্তি তৈরি করা যায়। এতে সাধারণ সাইবার হামলার ধরন, নিরাপত্তার মূলনীতি এবং হামলার পর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে শেখানো হয়। ফলে পরিচালনামূলক সাইবার নিরাপত্তার কাজে প্রবেশের জন্য একটি পরিষ্কার ধারণা তৈরি হয়।
ই-কমার্স লজিস্টিকস
ফ্লিপকার্টের একার্ট ও এক্সপ্রেসবিসের মতো লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন গুদাম ব্যবস্থাপনা, শেষ ধাপের পণ্য সরবরাহ এবং পণ্য ফেরত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে লাখ লাখ পার্সেল পরিচালনা করে। আরও বেশি ব্র্যান্ড বাজারে প্রবেশ করায় এই কার্যক্রম আরও জটিল হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেটা ও স্বয়ংক্রিয়তা ব্যবহার করে এসব ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে পারেন, এমন পেশাজীবীদের চাহিদাও বাড়ছে।
প্রতিষ্ঠানগুলো এমন কর্মী খুঁজছে, যাঁরা প্রক্রিয়া উন্নয়ন সম্পর্কে জানেন, যেমন লিন বা সিক্স সিগমার মৌলিক ধারণা, চাহিদার পূর্বাভাস দিতে পারেন, মজুদের মূল কার্যক্ষমতা সূচক বা কেপিআই পরিচালনা করতে পারেন এবং গুদাম ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা বা ডব্লিউএমএস ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা বা টিএমএস বাস্তবে কীভাবে কাজ করে, তা বোঝেন।
ই-কমার্স লজিস্টিকস প্ল্যাটফর্মগুলো ডব্লিউএমএস ও টিএমএসের ওপর নির্ভর করলেও এই খাতে প্রবেশ করতে চাওয়া পেশাজীবীদের প্রথমে সরবরাহ ব্যবস্থাপনার মৌলিক বিষয়গুলো ভালোভাবে জানতে হবে। সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিকসে ডিপ্লোমা পর্যায়ের জ্ঞান মজুদ পরিকল্পনা, কাজের দক্ষতা এবং কার্যক্ষমতা পরিমাপের মতো মৌলিক দক্ষতা তৈরিতে সহায়তা করে। পরে এর সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়তা, ডেটা বিশ্লেষণ ও সিস্টেমভিত্তিক প্রশিক্ষণ যুক্ত করা যায়।
ডেটা সায়েন্স
প্রতিষ্ঠানগুলো দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরিচালনামূলক ও গ্রাহকসংক্রান্ত ডেটার ওপর বেশি নির্ভর করায় ডেটা সায়েন্সের চাহিদা বাড়ছে। আরও বেশি প্রতিষ্ঠান ডেটা বিশ্লেষণ ও এআই-সহায়িত কাজের প্রক্রিয়া নিয়মিত ব্যবহারের আওতায় আনছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই চাহিদা বাড়তে দেখা যাচ্ছে।
নিয়োগের প্রবণতাতেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, ডেটা সায়েন্সের কাজে প্রায় ৩৪ শতাংশ কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ফলে এটি দ্রুত বর্ধনশীল চাকরির ক্ষেত্রগুলোর একটি। স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি, ই-কমার্স ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে এসব পদের দেখা মেলে, কারণ এসব খাতেই ডেটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
এই ক্ষেত্রের আরেকটি সুবিধা হলো, এন্ট্রি লেভেলের নিয়োগে কী ধরনের দক্ষতা চাওয়া হয়, তা তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার। একাডেমিক গবেষণা বা উচ্চতর তত্ত্বের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে নিয়োগদাতারা সাধারণত প্রার্থীরা ডেটা নিয়ে কাজ করতে পারেন কি না, তার প্রমাণ খোঁজেন। যেমন ড্যাশবোর্ড তৈরি, বাস্তব ডেটাসেট নিয়ে কাজ এবং ব্যবহারযোগ্য বিশ্লেষণ তৈরি করা। বেশির ভাগ জুনিয়র পদের মূল কাজের মধ্যে থাকে ডেটা প্রস্তুত করা, বিশ্লেষণ করা এবং প্রতিবেদন তৈরি করা।
এই খাতে প্রবেশ করতে চাইলে নির্দিষ্ট দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা কাজে আসতে পারে। ডেটা অ্যানালিটিকসে ডিপ্লোমার মাধ্যমে বাস্তব ব্যবসায়িক পরিবেশে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, কাজের ধারা ও ব্যবহারিক পদ্ধতি শেখা যায়। এতে চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি করতে সহায়তা পাওয়া যায়।
চাকরির বাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং কিছু শিল্প অন্যগুলোর তুলনায় অনেক দ্রুত বাড়ছে। এআই, ফিনটেক, সবুজ জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, সাইবার নিরাপত্তা, লজিস্টিকস ও ডেটা সায়েন্স খাতে চাহিদা বাড়ছে।
সঠিক দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া এবং হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করলে এমন পদে প্রবেশ করা সম্ভব, যেখানে ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এখনই।
kalprakash.com/IM