বিয়ের ক্ষেত্রে তথ্য গোপন ও প্রতারণা রোধে কাবিননামায় বর-কনের আগের বিয়ে, বিদ্যমান বিয়ে, সন্তান এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ ও যাচাইয়ের ব্যবস্থা করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার এ সংক্রান্ত এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও তানজিলা রহমান জুই। এর আগে গত ২৬ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ব্যবহৃত বাংলাদেশ ফরম নম্বর ১৬০১ বা ‘ফরম ঘ’ কাবিননামায় বর ও কনে উভয়ের পূর্ববর্তী ও বিদ্যমান বিয়ে, সাবেক স্বামী বা স্ত্রী, তালাক নিবন্ধনের তথ্য, সন্তান এবং আগের সম্পর্কের কারণে সৃষ্ট ভরণপোষণ ও অভিভাবকত্বসহ চলমান আইনি দায়দায়িত্ব সঠিকভাবে প্রকাশ ও যাচাইয়ের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বরের বর্তমান স্ত্রী ও সালিশি পরিষদের অনুমতির বিষয়ে কাবিননামায় তথ্য চাওয়া হলেও আগের বিয়ে, তালাক বা সন্তানদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে কনের ক্ষেত্রেও পূর্বের বৈবাহিক ইতিহাস যাচাইয়ের সমতাভিত্তিক কোনো নিয়ম নেই। ফলে এসব তথ্য গোপন করে পরবর্তী বিয়েতে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ থেকে যায়, যা প্রতারণা ও মারাত্মক পারিবারিক বিরোধের জন্ম দেয়।
আবেদনে নাগরিকদের পারিবারিক অধিকার সুরক্ষায় কাবিননামার ফরম সংশোধন করে বর ও কনের আগের এবং বিদ্যমান বিয়ে, সন্তান, আইনি দায়দায়িত্বের বিবরণ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্ট নম্বর অন্তর্ভুক্ত করে তা যাচাইযোগ্য করার নির্দেশনা চাওয়া হয়। শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং ফরমটি সংশোধনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের জানাতে নির্দেশ দেন।
kalprakash.com/IM