মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং রাশিয়ার শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে দেশটিতে ডিজেলের গড় খুচরা মূল্য প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালনে ৬ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।
জ্বালানি বাজার পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি সরবরাহ সংকটই যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান কারণ।
বিশ্ব অর্থনীতিতে ডিজেলের গুরুত্ব অনেক। পণ্যবাহী ট্রাক, রেল, জাহাজ ও ভারী শিল্পের পাশাপাশি কৃষি যন্ত্রপাতিতেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় এই জ্বালানি। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামে।
এ অবস্থায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাও বাড়ছে। জ্বালানির বাড়তি ব্যয় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ যেমন বাড়াচ্ছে, তেমনি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয়ও বাড়ছে।
নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য চাপ
ডিজেলের এই মূল্যবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন চাপ তৈরি করেছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতেও জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের প্রতি বেশি আস্থা দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসার সম্ভাবনা সীমিত।
১০০ ডলারের ওপরে তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও দ্রুত বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সর্বশেষ ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৬৩ ডলারে উঠেছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআইয়ের দাম দাঁড়িয়েছে ১০২ দশমিক ৪৮ ডলার।
এর সঙ্গে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। রাশিয়ার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং চীনের সাম্প্রতিক জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করার পদক্ষেপও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় মজুদ ১৩ শতাংশ কম
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য বলছে, দেশটির ডিজেল মজুদ পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কমে ১০ কোটি ৬৩ লাখ ব্যারেলে নেমেছে।
মার্কিন শোধনাগারগুলো প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হলেও চাহিদার তুলনায় ডিজেলের মজুদ কয়েক বছরের মধ্যে নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরৎ মৌসুমে শোধনাগারগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ শুরু হলে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ডিজেলের উচ্চমূল্য ও বাজারের অস্থিরতা আগামী বছরের শুরু পর্যন্তও অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।