জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চে কোনো বাধা এলে তা মোকাবিলা করেই গন্তব্যে পৌঁছানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ৬ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ কর্মসূচির আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য এই রাস্তায় নামিনি; নেমেছি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্যই আমাদের এই কর্মসূচি।” এ সময় ৬ দফা দাবির সঙ্গে আরও একটি দাবি যুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বরদাস্ত করা হবে না।
দেশের সাধারণ মানুষের সংকটের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, চাঁদাবাজদের অত্যাচারে জনগণ আজ অতিষ্ঠ এবং দুর্নীতিবাজদের কারণে তাদের অধিকার লুণ্ঠিত। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকটাপন্ন হলেও নিয়মিত ভুতুড়ে বিলের বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সিফাত নামের এক তরুণের প্রতিবাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতিষ্ঠ হয়েই ওই তরুণ প্রতিবাদ করেছেন। তার ভাষার সঙ্গে একমত না হলেও যে বিষয়ে তিনি প্রতিবাদ জানিয়েছেন, সেই ইস্যুতে প্রয়োজনে দেশের ১৮ কোটি মানুষ ‘সিফাত’ হয়ে গর্জে উঠবে। এ সময় সিফাতকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ওরে ছেড়ে দেন, ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দেন। যদি না ছাড়েন, তাহলে মনে রাখবেন—এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন কিংবা এক ডা. মিলন অনেকের গদি ওলটপালট করে দিয়েছিল। কখন যে পচা শামুকে পা কাটে, তা কেউ বলতে পারে না।”
লংমার্চ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের দাবি আদায়ের অঙ্গীকার পূরণ করতেই এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সরকারের বিভিন্ন বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আপনারা বলছেন এই করলে-সেই করলে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে জনগণও কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।”
চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর আগে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, গন্তব্যের পথে যেকোনো বাধা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েই তারা মাঠে নেমেছেন। জনগণের অধিকার আদায়ে কোনো বাধাকেই পরোয়া না করে ইনশাআল্লাহ গন্তব্যে পৌঁছানো হবে।
অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা জনগণের জন্য রাস্তায় নেমেছি, অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ। রাজপথে এবং জাতীয় সংসদে সমান্তরালভাবে এই আন্দোলন চলতে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত ১৮ কোটি মানুষের প্রতিটি অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হয়।”
বক্তব্যের সমাপ্তিতে ১১ দলীয় ঐক্যের এই আন্দোলন ঐক্যবদ্ধভাবে চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে দৃঢ় পদক্ষেপে আমরা এগিয়ে যাব এবং ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলনের মাধ্যমেই জনগণের দাবি আদায় করব ইনশাআল্লাহ।
kalprakash.com/IM