যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার নাগরিকত্ব বা বৈধ অভিবাসন মর্যাদার প্রমাণপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (স্টেট ডিপার্টমেন্ট)। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার সীমিত করার সাম্প্রতিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ কঠোর খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পর্যালোচনা করা এক খসড়া নির্দেশনায় দেখা গেছে, ট্রাম্পের ৬ আগস্ট স্বাক্ষরিত নির্বাহী আদেশ ১৪৪১৮ কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা স্টেট ডিপার্টমেন্টের এ প্রস্তাবে বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করে সন্তান প্রসবের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব হাসিলের প্রবণতা, যা ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নামে পরিচিত, সেটি বন্ধ করাই এ আদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন নাগরিকত্বের মর্যাদা ও মূল্য সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। পাসপোর্ট আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও সেই মানদণ্ড পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিফলিত করা হচ্ছে।
নতুন খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, পাসপোর্টের আবেদনের সময় পিতা-মাতা বা আইনগত অভিভাবককে নিজেদের মার্কিন পাসপোর্ট কিংবা জন্মনিবন্ধনের মতো নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। আর যারা মার্কিন নাগরিক নন, তাদের ক্ষেত্রে বৈধ স্থায়ী বসবাসের কার্ড (গ্রিন কার্ড) অথবা আই-৯৪ ফর্মের মতো বৈধ অভিবাসন সনদ জমা দেওয়া আবশ্যক হবে। এসব নথির ভিত্তিতে প্রশাসন নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট শিশুটি নতুন নির্বাহী আদেশের আওতায় নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য কি না। কোনো শিশুর মা-বাবা বিদেশি সরকারের অধীনে কর্মরত থাকলে কিংবা নাগরিকত্ব লাভের জন্য কোনো ধরনের প্রতারণামূলক বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ায় জড়ালে সেই শিশুর নাগরিকত্ব আটকে দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে কেবল শিশুর সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ, অভিভাবকের সচিত্র পরিচয়পত্র এবং নাগরিকত্ব বিষয়ে সাধারণ ঘোষণা দিলেই পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের অনুরূপ একটি নির্বাহী আদেশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ (৬-৩) বিচারপতির রায়ে বলা হয়েছিল, আদেশটি মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্বসংক্রান্ত সুরক্ষা ধারার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
এদিকে ট্রাম্পের নতুন আদেশ কার্যকর হওয়া ঠেকাতেও ইতোমধ্যে দুটি ফেডারেল আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টের ফেডারেল জেলা বিচারক ডেবোরা বোর্ডম্যান এক শুনানিতে ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে ‘নজিরবিহীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে মার্কিন বিচার বিভাগের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এখনো জনসমক্ষে চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশ না করায় এ আইনি পদক্ষেপ অপরিণত।
kalprakash.com/IM