রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় সরকারি উন্নয়নকাজে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, চাঁদা না পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং চলমান উন্নয়নকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাঙামাটি শহরের বনরূপা এলাকার একটি সম্মেলনকক্ষে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘এমএস এন্টারপ্রাইজ’–এর পক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ৪ নম্বর কলমপতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ঠিকাদারি কাজের মালামাল সরবরাহকারী মো. ইসমাইল হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে ইসমাইল হোসেন জানান, কাউখালী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সরকারি উন্নয়নকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লিখিত চুক্তির ভিত্তিতে তিনি নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করে আসছিলেন। তবে একটি চক্র দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা চলমান উন্নয়নকাজে বাধা সৃষ্টি করে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, পরবর্তীতে স্থানীয় কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি নির্মাণস্থলে গিয়ে কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর অতর্কিত হামলা ও মারধর করে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হন। আহতদের কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত সরকারি উন্নয়নকাজ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রভাব ও চাঁদাবাজির কারণে বন্ধ হতে পারে না। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তার দায় দল নেবে না উল্লেখ করে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং উন্নয়নকাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম, কাউখালী কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক আরমান ও ছাত্রনেতা মেহেরাজ সরকার রাজুসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
kalprakash.com/IM