সৌদি আরবে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে সেই টাকা ফেরত চাইতে গেলে সৌদিফেরত যুবক, তাঁর বাবা ও এক স্বজনকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সোমবার সকালে যশোরের শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শাহাজান মোল্যা (৬০)। তিনি উপজেলার বসতপুর গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাহাজান মোল্যার ছেলে আবু রায়হান রিপনকে সৌদি আরবে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি একই গ্রামের শাহাজালাল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকার চুক্তি হয়। পুরো টাকা পরিশোধের পর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রিপনকে তিন মাসের ট্যুরিস্ট ভিসায় সৌদি আরবে পাঠানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়, সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর রিপনকে কোনো কাজ দেওয়া হয়নি। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও কাজের ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিভিন্ন সময় কাজ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘ ছয় মাসে কোনো সুরাহা না হওয়ায় অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনেন তাঁর বাবা।
এদিকে গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে পাওনা ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ফেরত চাইতে গেলে শাহাজান মোল্যার সঙ্গে অভিযুক্ত শাহাজালাল, আল আমিন, শাহাজালালের স্ত্রী হাসিনা খাতুন এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা কুমিল্লার দাউদকান্দির বাসিন্দা হেফাজউদ্দিনের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শাহাজান মোল্যা, তাঁর ছেলে রিপন ও সঙ্গে থাকা আলাউদ্দিনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে রিপনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্য দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া টাকা ফেরত না দেওয়ার পাশাপাশি শাহাজান মোল্যাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহাজালাল বলেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমি তাকে সৌদি আরবে নিয়ে গেছি। কাজ না পেলে আমার করার কী আছে? তার ছেলে অপেক্ষা না করে দেশে ফিরে এসেছে। তাই টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। তাদের কোনো মারধর করা হয়নি, কেবল কথা-কাটাকাটি হয়েছে।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
kalprakash.com/IM