মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | দুপুর ১:৫৯:২৯

হিমবাহ বিপর্যয়ের আগে পর্যাপ্ত তথ্য দেয়নি চীন, অভিযোগ নেপালের বিশেষজ্ঞদের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৮
শেয়ার: mail
হিমবাহ বিপর্যয়ের আগে পর্যাপ্ত তথ্য দেয়নি চীন, অভিযোগ নেপালের বিশেষজ্ঞদের

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হিমবাহধস, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের প্রায় তিন মাস আগেই সম্ভাব্য দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে যৌথ বৈঠক করেছিলেন নেপাল ও চীনের বিশেষজ্ঞরা। তবে ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের আগে হিমবাহের পরিবর্তন ও নদীর পানির স্তরসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য চীনের কাছ থেকে সময়মতো না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নেপালের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, সীমান্তপারের তথ্য আদান-প্রদানের ঘাটতি দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস ও প্রস্তুতিকে দুর্বল করেছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত ২৭ মে কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ওই বিশেষ বৈঠকে নেপালের ১০ জন এবং চীনের প্রায় এক ডজন কর্মকর্তা অংশ নেন। বৈঠকে বন্যা ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানচিত্র তৈরি এবং হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদের তালিকা প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।

নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের বিশেষজ্ঞ সৌহার্দ্য যোশি জানান, হিমবাহে কোনো তাৎক্ষণিক পরিবর্তন দেখা দিলে চীন যেন দ্রুত সেই তথ্য সরবরাহ করে, এমনটাই চাওয়া হয়েছিল। তবে বৈঠকের পর প্রত্যাশিত মাত্রায় তথ্য পাওয়া যায়নি। নেপাল সরকারের পানিবিশেষজ্ঞ বিনোদ পরাজুলি বলেন, তিব্বতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়া গেলেও তুষারধস, পানির স্তর বৃদ্ধি কিংবা ভূমিধসের মতো জরুরি তথ্য নিয়মিত আদান-প্রদান করা হয় না।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবারের হিমবাহধস ও পাহাড়ি ঢলে নেপাল ও চীন মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ। যদিও দুর্যোগের ১২ দিন আগে চীনের ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল সেন্টার ই-মেইলে সম্ভাব্য ভারী বৃষ্টি ও বন্যার পূর্বাভাস পাঠিয়েছিল। তবে নেপালি কর্মকর্তাদের মতে, আরও বিস্তারিত ও তাৎক্ষণিক (রিয়েল-টাইম) তথ্য পেলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো।

অভিযোগের বিষয়ে নেপালে অবস্থিত চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং সময়মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। দূতাবাস আরও উল্লেখ করেছে, দুর্গম হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।

এদিকে ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় কার্যকরভাবে মোকাবিলায় ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান কাঠামোর আদলে চীনের সঙ্গেও একটি আনুষ্ঠানিক তথ্য আদান-প্রদান চুক্তি করতে চায় নেপাল। এর আওতায় প্রতি ১০ মিনিট পরপর বৃষ্টিপাত ও নদীর পানির স্তরের রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

হিমবাহ বিপর্যয়ের আগে পর্যাপ্ত তথ্য দেয়নি চীন, অভিযোগ নেপালের বিশেষজ্ঞদের

বিস্তারিত কমেন্টে